২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ফেসবুকে স্বীকৃত প্রোফাইলের মাধ্যমে ফারিয়া তার নিজস্ব ভোটার তালিকায় ঢাকা‑৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কঠিনতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই এলাকার ভোটার হওয়া তার জন্য মানসিক ও সামাজিক চাপের কারণ, বিশেষ করে নির্বাচনী পরিবেশের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। ফারিয়ার পোস্টটি দ্রুত শেয়ার হয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
কমেন্ট সেকশনে কিছু ব্যবহারকারী পোস্টটিকে হালকা মেজাজে নিয়ে কৌতুকের ছলে মন্তব্য করেন, তবে অধিকাংশ নেটিজেন ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী সহিংসতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, ঢাকা‑৮ এর মত কেন্দ্রীয় ও ব্যস্ত এলাকা যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, সেখানে ভোটারদের জন্য শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাকা‑৮ আসনের ভোটের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীরা এলাকার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, পূর্বের নির্বাচনী সংঘর্ষ এবং বর্তমান প্রার্থীদের প্রচারণা কৌশল নিয়ে বিশ্লেষণ শেয়ার করেন। এই আলোচনায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ঢাকা‑৮ আসন মোট পাঁচটি থানা—মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর—কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই এলাকাগুলি ঢাকা শহরের আর্থিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেখানে সরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের ভিড়ের পরিমাণ বেশি। ফলে, নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়ে এবং ভোটারদের জন্য সুষ্ঠু ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মির্জা আব্বাস, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) থেকে নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী এবং মডেল মেঘনা আলম। প্রত্যেক প্রার্থীই নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ভোটার ভিত্তি তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মির্জা আব্বাস তার অভিজ্ঞতা ও পার্টির ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে ভোটারদের সমর্থন দাবি করছেন, পাটওয়ারী ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টির নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, আর মেঘনা আলম তার তরুণ ও আধুনিক চিত্র ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা সকলেই শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। মির্জা আব্বাস নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি ও ভোটারদের সুরক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। পাটওয়ারী ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার ওপর জোর দেন, যাতে কোনো ধরণের জালিয়াতি না ঘটে। মেঘনা আলম তার ক্যাম্পেইনে ভোটারদের স্বেচ্ছা ও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দেন এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগের দাবি করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ঢাকা‑৮ আসনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি এই আসনে জয়লাভ করে, তবে পার্টির জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা পাবে। অন্যদিকে, বিএনপি ও স্বাধীন প্রার্থীর পারফরম্যান্সও পার্টির গঠন ও জোটের সম্ভাবনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হতে পারে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটের তারিখ ও সময়সূচি প্রকাশ করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, এবং নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পুলিশ ও র্যাঙ্কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
ফারিয়ার পোস্টের পর থেকে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়লেও, একই সঙ্গে ভোটার অংশগ্রহণের গুরুত্বও পুনরায় জোরদার হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়া তথ্য ও মন্তব্যগুলো ভোটারদের জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করছে, যাতে তারা নিরাপদে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। শেষ পর্যন্ত, ঢাকা‑৮ আসনের ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের সচেতনতা নিশ্চিত করা এই নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।



