28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামালয়েশিয়ার ফুটবল সমিতির পুরো নির্বাহী কমিটি পদত্যাগ, বিদেশি জন্মের খেলোয়াড়দের স্ক্যান্ডাল

মালয়েশিয়ার ফুটবল সমিতির পুরো নির্বাহী কমিটি পদত্যাগ, বিদেশি জন্মের খেলোয়াড়দের স্ক্যান্ডাল

মালয়েশিয়া ফুটবল সমিতি (FAM) এর সম্পূর্ণ নির্বাহী কমিটি বুধবার এক বিবৃতিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপটি জাতীয় দলের বিদেশি জন্মের খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নিয়ে ফিফার (FIFA) অভিযোগের পর নেওয়া হয়েছে। ফিফা সমিতির উপর সাতজন বিদেশি জন্মের ক্রীড়াবিদকে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব নথি পরিবর্তন করে দলীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছে।

FAM এর প্রকাশ্য বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমান নেতৃত্বের পদত্যাগের মূল উদ্দেশ্য হল কোনো ব্যাঘাত বা স্বার্থের সংঘাত ছাড়াই প্রয়োজনীয় সংস্কার চালিয়ে যাওয়া এবং সমিতির উপর পুনরায় বিশ্বাস স্থাপন করা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমিতির সুনাম ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করা এবং মালয়েশিয়ার ফুটবলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধ করা লক্ষ্য করা হয়েছে।

স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছুদিন আগে থেকে FAM এর শীর্ষ কর্মকর্তারা ফিফা-নিয়োজিত একটি তত্ত্বাবধায়ক কমিটির দখল এড়াতে পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন। সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়ে পুরো নির্বাহী কমিটি একসাথে পদত্যাগ করে।

নতুন কমিটি গঠনের আগে, সমিতির দৈনন্দিন কার্যক্রম একটি ছোট টিমের মাধ্যমে চালু থাকবে। এই টিমের নেতৃত্বে থাকবে সেক্রেটারি-জেনারেল, যিনি এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এর সহায়তায় কাজ করবেন।

ফিফা কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগের মূল বিষয় হল নাগরিকত্বের নথি পরিবর্তন করে সাতজন বিদেশি জন্মের খেলোয়াড়কে মালয়েশিয়ার জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফিফা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের জরিমানা আরোপ করে এবং সাময়িকভাবে তাদের খেলা থেকে স্থগিত করে।

সেই সাতজন খেলোয়াড়ের উপর আরোপিত শাস্তি সাম্প্রতিক সময়ে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS) দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। তবে CAS এখনও এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে বাকি রয়েছে।

মালয়েশিয়া দল জুন মাসে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে এশীয় কাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ৪-০ বড় জয় অর্জন করার পর ফিফা এই খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলে প্রকাশ পায় যে দলটি সাতজন বিদেশি জন্মের ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যাদের মধ্যে রয়েছে স্পেনের গ্যাব্রিয়েল ফিলিপে আর্রোচা, ফাকুন্ডো তোমাস গার্সেস, জন ইরাজাবাল ইরাউরগুই; আর্জেন্টিনার রড্রিগো জুলিয়ান হোলগাডো, ইমানল জাভিয়ের মাচুকা; নেদারল্যান্ডসের হেক্টর আলেজান্ড্রো হেভেল সেরানো; এবং ব্রাজিলের জোয়াও ভিটোর ব্রান্দাও ফিগুইরেদো।

ফিফা যে “গ্র্যান্ডফাদার রুল” উল্লেখ করে, তা অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়ের পিতামাতা বা দাদী-নানীর জন্মস্থান যদি কোনো দেশের সাথে সংযুক্ত থাকে, তবে তিনি সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল জাতীয় দলগুলোকে কেবলমাত্র পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য বিদেশি খেলোয়াড়কে আমদানি করা থেকে রোধ করা।

গ্র্যান্ডফাদার রুলের প্রয়োগের মাধ্যমে ফিফা নিশ্চিত করতে চায় যে প্রতিটি জাতীয় দল তার নিজস্ব প্রতিভা ও ঐতিহ্যকে সম্মান করে, আর বিদেশি খেলোয়াড়ের ব্যবহার শুধুমাত্র ক্রীড়া ন্যায়বিচার ও নীতির সীমার মধ্যে থাকে।

বর্তমানে FAM এর নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া চলমান, এবং সমিতি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নির্দেশনা মেনে যথাযথ সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে কোন খেলোয়াড়ের যোগ্যতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় আসবে তা কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের রায়ের ওপর নির্ভরশীল। মালয়েশিয়ার ফুটবল ভক্তদের জন্য এই পরিস্থিতি সতর্কতা ও পুনর্গঠনকে একসাথে নির্দেশ করে, এবং দেশের ফুটবলের স্বচ্ছতা ও সুনাম পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments