মুম্বাই বিমানবন্দরে আজ সকাল ৮টায় লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের একটি উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে ধসে পড়ে আগুনে জ্বলে যায়। এতে যাত্রা করা অজিত পাওয়ার এবং তিনজন সহযাত্রীসহ মোট চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, বাকি আটজনের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার চেষ্টা করছিল।
উক্ত উড়োজাহাজটি ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন এবং অজিত পাওয়ারের চারটি নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মুম্বাই থেকে রওনা হয়েছিল। যাত্রা শুরু হওয়া থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট পর বারামতীর রানওয়েতে অবতরণ করার প্রচেষ্টায় বিমানটি দৃশ্যমানতা হ্রাসের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
এই একই বিমানটি ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে আরেকটি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। সেই সময়ে ভারী বৃষ্টির মধ্যে অবতরণ করার চেষ্টা করায় বিমানটি রানওয়েতে ছিটকে দ্বিখণ্ডিত হয়, কো‑পাইলট গুরুতর আহত হলেও পাইলট ও আটজন যাত্রী অদ্ভুতভাবে বেঁচে যান।
লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের নিরাপত্তা রেকর্ডে অতীতের সমস্যাগুলো উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে মেক্সিকোতে একই মডেলের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু ঘটায়, যা এই মডেলের কাঠামোগত দুর্বলতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) এবং ভিএসআর ভেঞ্চারস উভয়ই তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে। উড়োজাহাজের ফিটনেস, রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং পূর্বের মেরামত কাজের মান যাচাই করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের ক্যাপ্টেন ভি কে সিং উল্লেখ করেছেন, অবনতিপ্রাপ্ত আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়াই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হতে পারে। তিনি অতিরিক্তভাবে বলেন, উড়োজাহাজের যান্ত্রিক অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষা করা জরুরি।
লিয়ারজেট ৪৫ মডেলটি ১৯৯০-এর দশকে প্রথম উত্পাদিত হয় এবং তার নিরাপত্তা রেকর্ডে ধারাবাহিক সমস্যার রেকর্ড রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো বয়সের যন্ত্রপাতি এবং পুরনো এয়ারফ্রেমের কারণে কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, যা বহুবার রক্ষণাবেক্ষণ সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে দূর করা যায়নি।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় মহারাষ্ট্রে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, এবং অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণে রাজনৈতিক পরিবেশে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী জনসভার উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের মিশ্রণে এই ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত সংবাদে দেশব্যাপী শোকের প্রকাশ দেখা গেছে, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি উড়োজাহাজের পূর্বের মেরামত কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ লগ এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণ রেকর্ড বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে। কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে যে, পূর্বের দু:খজনক ঘটনার পরও এই উড়োজাহাজটি পুনরায় উড়ার অনুমতি দেওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল কিনা।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে DGCA উড়োজাহাজের ফ্লাইট লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে। একই সঙ্গে, ভিএসআর ভেঞ্চারসের নিরাপত্তা প্রোটোকল ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উড়োজাহাজের বাকি অংশের বিশ্লেষণ, রেকর্ডের তুলনা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা হবে। ফলাফল অনুযায়ী, ভবিষ্যতে একই মডেলের উড়োজাহাজের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।



