রায়ান কুগলার পরিচালিত ভ্যাম্পায়ার হরর ‘সিনার্স’ বাফ্টা চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এই সপ্তাহে বাফ্টা কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় জানা যায়, এই ছবিটি কালো পরিচালক দ্বারা তৈরি সর্বোচ্চ সংখ্যক নোমিনেশন অর্জন করেছে। নোমিনেশন সংখ্যা মোট ১৩টি, যা এই শৈল্পিক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করে।
‘সিনার্স’ ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে ১৬টি ওসকার নোমিনেশন পেয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক নোমিনেশন অর্জনকারী চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে দাঁড়িয়েছিল। বাফ্টা নোমিনেশনগুলোতে কুগলারের সেরা পরিচালক, মাইকেল বি. জর্ডানের সেরা প্রধান অভিনেতা, উন্মি মোসাকুর সেরা সহায়ক অভিনেত্রী, মূল চিত্রনাট্য, কাস্টিং, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, মূল সঙ্গীত, পোশাক নকশা, মেক‑আপ ও চুল, প্রোডাকশন ডিজাইন এবং সাউন্ড বিভাগে নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।
বাফ্টা এই বছর বৈচিত্র্য বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোট নোমিনেটেড ছবির ২৫ শতাংশের পরিচালনা নারী পরিচালক করেছেন, যার মধ্যে ক্লোয়ে ঝাওর ‘হ্যামনেট’ উল্লেখযোগ্য, যা নারী পরিচালক দ্বারা সর্বোচ্চ নোমিনেশন পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান ছয় বছর আগে থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যখন কোনো নারী পরিচালক বাফ্টা সেরা পরিচালক বিভাগে নোমিনেটেড হননি এবং প্রধান ও সহায়ক অভিনেতা বিভাগে সব প্রার্থীই সাদা ছিলেন।
‘সিনার্স’ এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সের আরেকটি ছবি ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ বাফ্টা চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে ২২ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। উভয় ছবিই বাফ্টা নোমিনেশনের শীর্ষে রয়েছে, যা এই বছরের পুরস্কার বিতরণকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে। অন্যদিকে, ক্লোয়ে ঝাওর শেক্সপিয়ার ভিত্তিক ‘হ্যামনেট’ এবং জশ সাফডির পিং‑পং থিমযুক্ত ‘মার্টি সুপ্রিম’ প্রত্যেকটি ১১টি নোমিনেশন পেয়েছে। জোয়াকিম ত্রিয়ারের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এবং গিলারমো দেল টোরোর গথিক মহাকাব্যিক ‘F’ (শিরোনাম সম্পূর্ণ না হলেও উল্লেখযোগ্য) প্রত্যেকটি ১১টি নোমিনেশন পেয়েছে।
‘সিনার্স’ এর সাফল্য কেবল কুগলার ও তার দলকে নয়, পুরো শিল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। চলচ্চিত্রের ভ্যাম্পায়ার থিম এবং সামাজিক মন্তব্যের সমন্বয় আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। মাইকেল বি. জর্ডানের পারফরম্যান্স, উন্মি মোসাকুর শক্তিশালী সহায়ক অভিনেত্রী ভূমিকায় অভিনয় এবং দেলরয় লিন্ডোর সমর্থনমূলক চরিত্রগুলো ছবির গুণগত মানকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছে।
বাফ্টা নোমিনেশন ঘোষণার পর থেকে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা বাড়ছে, বিশেষ করে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক। নারী পরিচালক ও কালো পরিচালকের সমান সুযোগের দিকে অগ্রসর হওয়া শিল্পের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই রেকর্ডগুলো কেবল পুরস্কার জয়ের জন্য নয়, বরং চলচ্চিত্র নির্মাণে সমতা ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘সিনার্স’ ও ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ পাশাপাশি অন্যান্য বিশিষ্ট চলচ্চিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। এই বছরের বাফ্টা অনুষ্ঠান শিল্পের বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বরকে প্রতিফলিত করবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মানদণ্ডকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এবং শিল্পের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত অংশীদারদের জন্য এই নোমিনেশনগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও বহুমুখী চলচ্চিত্র তৈরির সম্ভাবনা নির্দেশ করে। বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ‘সিনার্স’ এর সাফল্য এবং শিল্পের পরিবর্তনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে উদযাপিত হবে।



