বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন এবং রেফারেন্ডাম-২০২৬-কে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সমুদ্র ও নদীপ্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপটি ১৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, মোট ২৮ দিনব্যাপী।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হাকের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থা নির্বাচন ও রেফারেন্ডামকে স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সগুলো দূরবর্তী ও কৌশলগত সমুদ্র ও নদীপ্রান্তের এলাকায় কাজ করবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কোস্ট গার্ড ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বা সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রের জন্য বিশেষ নজরদারি, নিয়মিত গশ্বর এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চালু করবে। এসব কেন্দ্র নরায়ণগঞ্জ, মাটলব (উত্তর), চাঁদপুর সদর ও হাইমচার উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, যা ঢাকা জোনের অধীনে রয়েছে।
এই ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় কোনো অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে। টিমগুলো সমুদ্র ও নদীর পথে চলাচলকারী নৌকা, হেলিকপ্টার ও স্থলগামী গাড়ি ব্যবহার করে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হবে।
কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, নির্বাচনের পূর্বে ও চলাকালীন সময়ে জনগণের মধ্যে রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের কাছে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হবে, যাতে ভোটাররা সঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী সরকার গঠনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা নির্বাচনের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত করে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী কোস্ট গার্ডের এই নিরাপত্তা পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, কিছু দল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আরও তদারকি চেয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের উপস্থিতি নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য হিংসা, ভোটচুরি ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজকেও শক্তিশালী করবে।
নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের ফলাফল যদি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রকাশ পায়, তবে তা সরকারকে জনমত ভিত্তিক নীতি নির্ধারণে আরও শক্তিশালী করবে। কোস্ট গার্ডের সক্রিয় ভূমিকা এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
কোস্ট গার্ডের এই অভিযান ২৮ দিনের মধ্যে সমুদ্র, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত গশ্বর চালাবে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা বজায় রাখবে। এধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়েও কার্যকর হবে।
নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকার রেফারেন্ডামের ফলাফল বিশ্লেষণ করে নীতি নির্ধারণে ব্যবহার করবে। কোস্ট গার্ডের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নত করবে।
সামগ্রিকভাবে, কোস্ট গার্ডের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের মোতায়েন নির্বাচন ও রেফারেন্ডামকে নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



