23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাভোলা গ্যাসের জন্য সরকার LNG বিকল্পে অগ্রসর, মূল্য নির্ধারণে বিরোধ

ভোলা গ্যাসের জন্য সরকার LNG বিকল্পে অগ্রসর, মূল্য নির্ধারণে বিরোধ

বাংলাদেশের শক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BERC) গতকাল ভোলা দ্বীপের গ্যাসকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আকারে সরবরাহের জন্য মূল্য নির্ধারণের জনসাধারণিক শুনানি পরিচালনা করে। এটি ঘটে যখন একটি বেসরকারি অপারেটর অনুমোদিত গ্যাসের পরিমাণ কম্প্রেসড রূপে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়। সরকার এখন উচ্চ মূল্যের সম্ভাবনা সত্ত্বেও LNG বিকল্পে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেসরকারি অপারেটরের সরবরাহের পরিমাণ অনুমোদিত চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, ফলে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য পূর্বে পরিকল্পিত কম্প্রেসড গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন হয়নি। ফলে সরকারকে বিকল্প সরবরাহ পদ্ধতি খুঁজতে বাধ্য করা হয়েছে।

শিল্প ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা ভোলা দ্বীপে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা অথবা দ্বীপে রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্প গড়ে গ্যাসের সরাসরি ব্যবহারকে অধিক কার্যকরী বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের ব্যবস্থা গ্যাসের ব্যবহারিকতা বাড়িয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা করতে পারে।

ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ, যা খুলনা অঞ্চলের কম ব্যবহারিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে গ্যাস সরবরাহ করবে, অথবা গ্যাসকে পদ্মা সেতু পাইপলাইনে যুক্ত করে জাতীয় বিতরণ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা এখনও স্থগিত রয়েছে। এই দুইটি প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ায় গ্যাসের ব্যবহারিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

BERC-র প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন কমিটি, জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুসরণ করে, টিটাস গ্যাস ও সুন্দরবন গ্যাসের সঙ্গে দুইটি বিতরণকারী কোম্পানির আবেদন বিবেচনা করে, ভোলা গ্যাসের শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ার ব্যবহারের জন্য প্রতি ঘনমিটারে ৪৭.৫০ টাকা ভোক্তা মূল্যের প্রস্তাব দেয়। এই মূল্যটি একই গ্যাসকে কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG) আকারে সরবরাহকারী ইন্ট্রাকো কোম্পানির বর্তমান হারকে প্রতিফলিত করে।

শুনানিতে উপস্থিত বেশিরভাগ অংশীদার উচ্চ মূল্যের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন, কারণ বর্তমান পাইপলাইন থেকে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৩০ টাকা, যা তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সম্প্রতি BERC নতুন শিল্পের জন্য গ্যাসের দাম ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও, প্রস্তাবিত ৪৭.৫০ টাকার হারকে অপ্রতিযোগিতামূলক বলে তারা উল্লেখ করেন।

শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডের ছয়টি গ্যাস কূপ বর্তমানে চালু রয়েছে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট প্রতি দিন (mmcfd)। ভোলা দ্বীপের গ্যাস চাহিদা প্রায় ৯০ mmcfd, যার মধ্যে ৩০ mmcfd টিটাস গ্যাসের মাধ্যমে শিল্প এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, ভোলা নর্থ ও ইলিশা গ্যাসফিল্ড বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো উৎপাদন চালু করা হয়নি। এই ফিল্ডগুলোকে সক্রিয় করা হলে গ্যাসের মোট সরবরাহ ক্ষমতা বাড়তে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও নীতি সমর্থন প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, LNG রূপে গ্যাস সরবরাহের উচ্চ খরচ দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে, বিশেষত যখন বিদ্যমান পাইপলাইন থেকে কম দামে গ্যাস পাওয়া যায়। তাই সরকারকে মূল্য নির্ধারণের সময় বাজারের প্রতিযোগিতা, শিল্পের চাহিদা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণ করতে হবে।

ভবিষ্যতে গ্যাসের ব্যবহারিকতা নিশ্চিত করতে ভোলা দ্বীপে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ, রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন এবং নিষ্ক্রিয় গ্যাসফিল্ডের সক্রিয়করণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে LNG-ভিত্তিক সরবরাহের উচ্চ খরচের ঝুঁকি কমে আসতে পারে। তবে বর্তমান মূল্য কাঠামো ও অব্যাহত প্রকল্পের বিলম্ব গ্যাসের বাণিজ্যিক দিককে অনিশ্চিত রাখছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments