28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধফরিদপুরে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার বন্ধ

ফরিদপুরে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার বন্ধ

ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীদের সমন্বিত বর্জনের ফলে দুই দিন ধারাবাহিকভাবে মামলার শুনানি স্থগিত হয়েছে। আদালতে উপস্থিত হওয়া প্রত্যাশিত litigants-রা শুনানির অনুপস্থিতিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, আর কোর্টের দরজা বন্ধ থাকায় তাদের অপেক্ষা বাড়ছে।

বহুদিনের বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ভাঙার মূল কারণ হল বিচারক সেলিম রেজা-র সঙ্গে আইনজীবী ও মামলার পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক রুঢ় আচরণ। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু জানান, বিচারককে নিয়মিতভাবে অনাদরপূর্ণ ও অবমাননাকর আচরণ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমিতি মঙ্গলবার দুপুর প্রায় একটায় জরুরি সভা ডেকে বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সভায় উপস্থিত সদস্যরা একমত হন যে, বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালতে কোনো কার্যক্রম চালু করা হবে না। পিলু উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতি সমিতির পূর্ণ সমর্থন থাকলেও, বিচারিক প্রক্রিয়ায় সম্মানজনক ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অপরিহার্য।

বর্জনের পর থেকে আদালতে কোনো মামলার শুনানি হয়নি। জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালত থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিলু জানান, জেলা ও উচ্চ আদালতের জজ জিয়া হায়দারের আহ্বানে তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে তাদের দাবি স্পষ্ট—বিচারক সেলিম রেজা-কে অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালতের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে।

বিচারপ্রার্থীরা, যারা বিভিন্ন উপজেলায় থেকে আদালতে আসেন, তারা আদালতের বারান্দায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত আদালতের দরজা খুলে না, ফলে সারা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের পরেও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক আবেদনকারী জানান, তিনি ৫৫-৬০ কিলোমিটার দূর থেকে শহরে এসেছেন, কিন্তু কোর্ট বর্জনের তথ্য না জেনে এত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়নি।

অধিকাংশ litigants-র জন্য এই পরিস্থিতি কেবল সময়ের ক্ষতি নয়, আর্থিক ও মানসিক চাপও বাড়িয়ে তুলেছে। আদালতে দাখিল করা মামলাগুলোর সময়সীমা বাড়ার ফলে পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনজীবীরা যদিও বর্জনের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রকাশ করছেন, তবু সাধারণ জনগণের জন্য বিচারিক সেবা বন্ধ হওয়া একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

অধিকর্তারা এখন পর্যন্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালত উভয়ই বিচারক সেলিম রেজা-র আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, আদালতে পুনরায় কার্যক্রম চালু করার আগে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমাধান বের করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে। আইনজীবী সমিতি ও বিচারিক সংস্থার মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা নির্ভর করবে বিচারক সেলিম রেজা-র আচরণ সংশোধনের ওপর এবং আদালতের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময়সূচির ওপর।

যদি বর্জন অব্যাহত থাকে, তবে আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর পর্যালোচনা ও শিডিউল পুনর্গঠন করতে হবে, যা অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, যদি দ্রুত সমাধান হয় এবং বিচারককে পরিবর্তন করা হয়, তবে আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়ে litigants-দের জন্য ন্যায়বিচার দ্রুততর হবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ফরিদপুরের বিচারিক পরিবেশে পুনরায় বিশ্বাস স্থাপন এবং আইনজীবী-নিয়ায়ক সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য উভয় পক্ষেরই গঠনমূলক সংলাপের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জনসাধারণের অধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments