মেলবোর্ন পার্কে বুধবার অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টারফাইনালে ১০‑বারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক ডজিচেভি, পঞ্চম সিডি লোরেঞ্জো মুস্তেটির আঘাতজনিত ত্যাগের পর সেমিফাইনালে অগ্রসর হলেন। মুস্তেটি ৬‑৪, ৬‑৩, ১‑৩ স্কোরে ডজিচেভিকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচটি ছেড়ে দিলেন, ফলে ডজিচেভির ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার স্বপ্ন এখনও জীবিত রইল।
ডজিচেভি, ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান, রোড লেভার আরেনায় ফুটের ব্লিস্টার চিকিৎসা করে পুনরায় কোর্টে ফিরে শক্তিশালী শুরুর মাধ্যমে বেশ কিছু ভিন্নধর্মী শট দেখালেন। তবে প্রথম সেটে দু’পয়েন্টের ভুলের পর মুস্তেটি ২‑২ সমতা স্থাপন করে ওভারহেড শটে প্রথমবার ডজিচেভিকে অতিক্রম করে সেটটি নিজের করে নিলেন।
দ্বিতীয় সেটে দু’পাশের তীব্র উইনারের ধারায় মুস্তেটি শুরুর গেমে ব্রেক পেলেন। যদিও ২৩‑বছর বয়সী ইতালিয়ান কিছু মুহূর্তে সুবিধা হারিয়ে আবার ডজিচেভিকে সমান করতে পারলেন, তবু দ্রুতই আবার এগিয়ে গিয়ে স্কোরকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলেন। ডজিচেভি তৃতীয় গেমে আবার ব্রেক নিয়ে ২‑১ এগিয়ে গেলেন, কিন্তু মুস্তেটি ত্রৈমাসিকের মাঝামাঝি সময়ে ডান থাইতে ব্যথা অনুভব করে ট্রেইনারকে ডাকা বাধ্য হলেন।
মুস্তেটি সমস্যাটি সামলাতে চেষ্টা করলেও তিনি ১০০% স্বাস্থ্যে ছিলেন না এবং দর্শকদের বিস্ময়ের মুখে টাওয়েল তোলার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার ত্যাগের ফলে ডজিচেভি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ১০৩তম জয় অর্জন করে রজার ফেডারারের রেকর্ডকে অতিক্রম করলেন। ডজিচেভি পূর্বে চতুর্থ রাউন্ডে জাকুব মেন্সিকের ওয়াকওভার পেয়ে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার পর এই ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন, ফলে তার শারীরিক সতেজতা স্পষ্ট ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে ডজিচেভি তার ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন, যা মার্গারেট কোর্টের সমান রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করে। তার ১০‑বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা ইতিমধ্যে টেনিসের ইতিহাসে অন্যতম সাফল্য, এবং এখন তিনি এককভাবে ২৫তম শিরোপা অর্জনের পথে অগ্রসর।
সেমিফাইনালে ডজিচেভি পরের রাউন্ডে জ্যানিক সিনার এবং বেন শেলটনের মধ্যে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টারফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবেন। উভয় খেলোয়াড়ই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাই ডজিচেভির পরবর্তী প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং ডজিচেভি তার অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি দিয়ে সেমিফাইনাল জয় নিশ্চিত করতে চান।
ডজিচেভির এই জয় তার ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক, যেখানে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের সংখ্যা অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে মুস্তেটির ত্যাগ তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে তিনি ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার করে আবার শীর্ষে ফিরে আসার সম্ভাবনা রাখেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই রাউন্ডে উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স টেনিস প্রেমীদের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে।



