ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা জেলায় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারভাইজার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ৩৪৩ জন সন্দেহভাজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন অপরাধের আসামি অন্তর্ভুক্ত।
তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এজন্য পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং র্যাবের সমন্বয়ে গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিদিনের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং ধরা পড়া অস্ত্রগুলো নিরাপত্তা সংস্থার হস্তে পৌঁছে যাচ্ছিল।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত পারাপারের সম্ভাব্য রুটগুলো পর্যবেক্ষণ করে সন্ত্রাসীরা যেন অবৈধ অস্ত্র দেশে আনতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যা চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে পাওয়া গেছে; সেখানে ৩১ জন সন্দেহভাজন রয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন চাঁদাবাজ এবং ২৬ জন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। কোতোয়ালিতে ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, সদর দক্ষিণ থানায় ৮ জন চাঁদাবাজ ও ৭ জন সন্ত্রাসী, নাঙ্গলকোটে ৪ জন চাঁদাবাজ ও ৪ জন সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত।
লাকসাম থানায় ৯ জন সন্ত্রাসী এবং ৪ জন চাঁদাবাজ, মনোহরগঞ্জে ৩০ জন সন্ত্রাসী, ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজ তালিকায় রয়েছে। বরুড়া থানায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ, চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ অন্তর্ভুক্ত।
তিতাসে ১১ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ, হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, মেঘনায় ৩ জন সন্ত্রাসী ও ৬ জন চাঁদাবাজ তালিকাভুক্ত। মুরাদনগরে মোট ২২ জন সন্দেহভাজন, দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী, বাঙ্গরা বাজারে ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নাম রয়েছে।
লালমাই ও বুড়িচংয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে জেলার অন্যান্য থানায় অন্তত ৭৯ জন অতিরিক্ত সন্দেহভাজনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অভিযানের পূর্বে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচন কমিশনারের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল (অব.সা.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই সভা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়কে জোরদার করেছে।
সামগ্রিকভাবে, কুমিল্লা জেলায় চলমান নিরাপত্তা অভিযান নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য হুমকি দমন, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্ভয়ে সম্পন্ন হতে পারে।



