নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় ছোটখাটো চোরের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দ্য ওনলি লিভিং পিকপকেট ইন নিউ ইয়র্ক’ চলচ্চিত্রটি স্যান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছে। লেখক-নির্দেশক নোয়া সেগান এই কাজের মাধ্যমে আধুনিক শহরের পরিবর্তনশীল গতি-প্রকৃতির সঙ্গে পুরোনো সময়ের স্মৃতির টানাপোড়েনকে তুলে ধরেছেন।
চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী দৃশ্যের সঙ্গে লসডি সাউন্ডসিস্টেমের ‘নিউ ইয়র্ক, আই লাভ ইউ বাট ইউ’র গীতটি বাজে, যা শহরের উঁচু গগনচুম্বী ভবন ও গলির গন্ধকে একসঙ্গে প্রকাশ করে। গানের মেলোডি ও গায়কের কণ্ঠস্বরের ম্লান স্বর শহরের অতীতের ধূসর স্মৃতি ও বর্তমানের তীব্র একাকিত্বের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য গড়ে তোলে।
প্রধান চরিত্র হ্যারি লেহম্যানের ভূমিকায় জঁ তুর্তুরো অভিনয় করেছেন। হ্যারি হলেন দক্ষ চোর, যার দ্রুত হাত ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনি মেট্রো ও রাস্তায় সম্ভাব্য লক্ষ্য খুঁজে বের করেন। তার চরিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি ছোটখাটো অপরাধের জগতে বেঁচে থাকার সংগ্রামকে চিত্রায়িত করেছে।
হ্যারি ছাড়াও গিয়ানকার্লো এস্পোসিটো, উইল প্রাইস, তাতিয়ানা মাসলানি, স্টিভ বাসেমি, লরি টান চিন, কেলভিন হ্যান ই ইত্যাদি পরিচিত অভিনেতারা বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গল্প রয়েছে, যা শহরের অপরাধ জগতের বহুমাত্রিক দিককে উন্মোচন করে।
চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা আটমিশে, যা সংক্ষিপ্ত হলেও বর্ণনায় সমৃদ্ধ। নোয়া সেগান লেখক-নির্দেশক হিসেবে গল্পের গঠন ও চরিত্রের বিকাশে সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেছেন। তার পূর্বের কাজের তুলনায় এই চলচ্চিত্রটি আরও গভীর থিম্যাটিক স্তরে পৌঁছেছে।
ফিল্মের পটভূমিতে পুরোনো সময়ের analog পদ্ধতির প্রতি একটি নস্টালজিক আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। হ্যারি, একটি পুরনো শৈলীর গোয়েন্দা, এবং একটি পনশপের মালিক—যারা সবাই আধুনিক প্রযুক্তির আগমনে তাদের কাজের পদ্ধতি বদলাতে বাধ্য—এই সবই চলচ্চিত্রের মূল বার্তা গঠন করে।
চলচ্চিত্রে একটি নারী অপরাধী মাতা চরিত্রও রয়েছে, যিনি ব্যবসা চালিয়ে যান এবং নতুন সময়ের সাথে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন, তবে অতীতের কঠিন দিনগুলোকে মিস করেন। তার উপস্থিতি পুরুষ প্রধান চরিত্রের সঙ্গে বৈপরীত্য গড়ে তোলে এবং গল্পে অতিরিক্ত স্তর যোগ করে।
হ্যারি যখন ভুল লক্ষ্যকে টার্গেট করে, তখন তার জীবনের অপ্রত্যাশিত মোড় আসে। এই মুহূর্তটি তার পুরনো পদ্ধতির অবসান এবং নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা নির্দেশ করে। তুর্তুরোর অভিনয় এখানে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়, কারণ তিনি চরিত্রের গর্ব ও দুঃখকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন।
চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইলের সমন্বয় শহরের রঙিন ও ধূসর দিকগুলোকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে। সেগানের ক্যামেরা কাজ রাস্তায় চলমান মানুষের গতি ও মেট্রোর গর্জনকে ধরা দিয়ে শহরের রিদমকে জীবন্ত করে তুলেছে।
‘দ্য ওনলি লিভিং পিকপকেট ইন নিউ ইয়র্ক’ একটি সমসাময়িক থ্রিলার হিসেবে বিবেচিত, যেখানে ছোটখাটো অপরাধের জগতে বেঁচে থাকার সংগ্রামকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়েছে। চলচ্চিত্রটি আধুনিক প্রযুক্তি ও পুরোনো পদ্ধতির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে একটি গভীর সামাজিক মন্তব্য প্রদান করে।
স্যান্ড্যান্সে এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। বিশেষ করে তুর্তুরোর পারফরম্যান্স ও সেগানের সূক্ষ্ম পরিচালনা প্রশংসিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য ওনলি লিভিং পিকপকেট ইন নিউ ইয়র্ক’ একটি সূক্ষ্মভাবে গড়ে তোলা গল্প, যেখানে পুরোনো ও নতুনের মধ্যে টানাপোড়েন, মানবিক দুর্বলতা ও অপরাধের জটিলতা একসঙ্গে মিশে আছে। শহরের রঙিন পটভূমিতে এই চলচ্চিত্রটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।



