মিউজিক কম্পোজার পালাশ মুচ্ছালকে মারাঠি অভিনেতা‑নির্দেশক ভিন্ডিয়ান মানে আর্থিক জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত অসৎ আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, মানে বলছেন যে পালাশ তার নতুন ছবির প্রকল্প ‘নাজারিয়া’ সংক্রান্ত মোট ৪০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছেন। প্রথমে ১২ লক্ষ টাকা প্রযোজক হিসেবে বিনিয়োগের পর, অতিরিক্ত ২৫ লক্ষ টাকা আরও একটি ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মানের মতে, এই অর্থ সত্ত্বেও ‘নাজারিয়া’ প্রকল্পটি কোনো অগ্রগতি লাভ করেনি এবং বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরতও পাননি। তদুপরি, মানে পালাশের স্মৃতি মান্ধনা সঙ্গে সম্পর্কের সময় অবিবাহিত অবস্থায় অবিশ্বস্ততা দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন। স্মৃতি মান্ধনা, যিনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সহ-ক্যাপ্টেন, ডিসেম্বর ২০২৫-এ পালাশের সঙ্গে বাগদান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এই নতুন অভিযোগের পর, পালাশ মুচ্ছাল গতকাল আন্দেহরি আদালতে তার আইনজীবী দলের সঙ্গে উপস্থিত হন। সরল পোশাক পরিধান করে তিনি আদালতে মানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন। দায়েরের আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি উল্লেখ করে তার অবস্থান প্রকাশের চেষ্টা করেছিলেন।
পালাশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পাপারাজি যখন তার এবং স্মৃতি মান্ধনার বাতিল বিবাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করল, তখন তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। প্রশ্নের মুখে তিনি সরাসরি গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা না বলে চলে যান। এই আচরণটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিষয়টির গুঞ্জন বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভিন্ডিয়ান মানে তার অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, পালাশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সময় তিনি স্বচ্ছতা ও সৎ আচরণ প্রত্যাশা করছিলেন, কিন্তু তা না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি আরও বলছেন যে, পালাশের স্মৃতি মান্ধনার সঙ্গে সম্পর্কের সময় অবিশ্বস্ততা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করেছে।
পালাশ মুচ্ছাল আদালতে দায়েরের সময় উল্লেখ করেছেন যে, মানের দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং তার পেশাগত সুনামকে ক্ষতি করছে। তিনি আদালতে প্রমাণের মাধ্যমে তার নির্দোষতা প্রমাণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দায়েরের পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের গুজবের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
এই মামলাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। উভয় পক্ষই তাদের-তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে, যেখানে মানে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং মানহানি রোধের দাবি করছেন, আর পালাশ তার সুনাম রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
পূর্বে ডিসেম্বর ২০২৫-এ স্মৃতি মান্ধনা পালাশের সঙ্গে বাগদান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা তখনই মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সেই সময়ের পর থেকে পালাশের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানা বিতর্কের স্রোত বয়ে চলেছে।
এই নতুন অভিযোগের ফলে পালাশের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে উভয় পক্ষের জন্যই স্পষ্টতা আসবে।
বিবাদটি এখনও চলমান, এবং মিডিয়া ও জনমত উভয়ই পালাশ মুচ্ছালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে। আদালতে দায়ের করা মানহানি মামলাটি কীভাবে সমাধান হবে, তা ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে।



