গুগল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে তার AI‑চালিত ফটো এডিটিং ফিচার এখন ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানসহ তিনটি নতুন দেশে চালু হবে। এই আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবির পরিবর্তন চাহিদা সরাসরি টেক্সট কমান্ডে লিখে সম্পাদনা করতে পারবেন, জটিল টুলের দরকার না রেখে। গুগল এই পদক্ষেপকে বিশ্বব্যাপী ফটো সম্পাদনা সহজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রথমবার এই ফিচারটি যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে পিক্সেল ১০ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়েছিল। তখনই ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক ভাষায় নির্দেশ দিয়ে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড, রঙ ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারতেন। এখন এই প্রযুক্তি অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানের ব্যবহারকারীদের জন্যও সমানভাবে উপলব্ধ করা হচ্ছে।
গুগল ফটোতে এডিট অপশন ট্যাপ করলে একটি “Help me Edit” বাক্স দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা এখানে পূর্বনির্ধারিত প্রম্পট থেকে বেছে নিতে পারেন অথবা নিজের ভাষায় সরাসরি অনুরোধ লিখে দিতে পারেন। এই পদ্ধতি ছবির স্লাইডার সমন্বয় বা জটিল সফটওয়্যার শিখার চেয়ে অনেক দ্রুত এবং স্বজ্ঞাত।
উদাহরণস্বরূপ, ব্যবহারকারী “পেছনের মোটরসাইকেলটি সরিয়ে দিন”, “ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্লার কমান” অথবা “এই পুরনো ছবিটি পুনরুদ্ধার করুন” এমন কমান্ড দিতে পারেন। আরও নির্দিষ্ট অনুরোধের ক্ষেত্রেও সিস্টেম কাজ করে; বন্ধুদের পোজ পরিবর্তন, চশমা অপসারণ বা চোখ বন্ধ থাকা ছবিতে চোখ খুলে দেওয়া সম্ভব।
এই ফিচারটি গুগলের Nano Banana ইমেজ মডেল ব্যবহার করে ছবি রূপান্তর করে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অ্যাপের ভিতরে সম্পন্ন হয়। ফলে ব্যবহারকারীর ডেটা ইন্টারনেটে পাঠাতে হয় না, এবং সম্পাদনা কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়। অফলাইন পরিবেশেও এআই‑এডিটিং সম্ভব হওয়ায় সংযোগের সীমাবদ্ধতা দূর হয়।
প্রযুক্তিটি যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে কাজ করবে, শর্ত হল ডিভাইসে কমপক্ষে ৪ GB র্যাম এবং অ্যান্ড্রয়েড ৮.০ বা তার উপরের সংস্করণ থাকতে হবে। পিক্সেল ফোনে সীমাবদ্ধ না থাকায় অধিকাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এই সুবিধা পেতে পারবেন। গুগল এইভাবে তার সেবা বিস্তারের লক্ষ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে।
নতুন বাজারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গুগল ভাষা সমর্থনও বাড়িয়ে বাংলা, হিন্দি, তামিল, মারাঠি, তেলেগু এবং গুজরাটি সহ ছয়টি স্থানীয় ভাষা যুক্ত করেছে। ব্যবহারকারীরা এখন নিজের মাতৃভাষায় সরাসরি প্রম্পট লিখে ছবি সম্পাদনা করতে পারবেন, যা ব্যবহারিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।
এছাড়াও গুগল ফটোতে C2PA কন্টেন্ট ক্রেডেনশিয়াল সমর্থন চালু করা হয়েছে। এই মেটাডেটা ছবির সৃষ্টি বা এডিটের সময় এআই ব্যবহার হয়েছে কিনা তা নির্দেশ করে, ফলে কপিরাইট ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। AI‑উৎপন্ন ও AI‑সম্পাদিত ছবির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সারসংক্ষেপে, গুগলের এই আপডেট ফটো সম্পাদনা প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং অধিক ভাষাগতভাবে প্রবেশযোগ্য করে তুলবে। ব্যবহারকারীরা এখন জটিল সফটওয়্যার শিখা ছাড়াই স্বাভাবিক ভাষায় ছবি পরিবর্তন করতে পারবে, যা দৈনন্দিন জীবনে সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের এআই‑চালিত টুলের বিস্তার ডিজিটাল মিডিয়ার গুণগত মান ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।



