ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকা আজ জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ড. শফিকুর রহমানের ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে পূর্ণ। তিনি ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল ভ্রমণ শেষে, আজই নির্বাচনী প্রচারণা চালু করেছেন।
প্রচারণার সূচনা হবে নর্থ কফরুল হাই স্কুল এলাকার দরজার-দরজা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি আলাপের মাধ্যমে। সকালবেলা এই এলাকায় তিনি ভোটারদের পার্টির নীতি ও রেফারেন্ডাম সম্পর্কে জানাবেন।
দুপুরের ৪:৩০ টায় তিনি মনিপুর হাই স্কুল ও কলেজ (মেইন গার্লস ক্যাম্পাস) মাঠে নারী সমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশে পার্টির নারী ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার পাশাপাশি রেফারেন্ডামের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
মাগরিব নামাজের পর তিনি মিরপুর-১৩-এ SOS হারম্যান গমেইনার কলেজের পেছনের এলাকায় আবার দরজার-দরজা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর ইশা নামাজের পর মিরপুর-১০ ফল বাজারে আরেকটি ঘনিষ্ঠ আলাপের সেশন হবে।
ড. শফিকুরের দক্ষিণাঞ্চল সফরে ২৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদাহে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন জশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে র্যালি দিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন সংগ্রহ করেন।
বাগেরহাট থেকে রাতের দিকে ঢাকা ফিরে আসার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাস স্ট্যান্ডে একটি স্ট্রিট মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি দু’টি ভোট দিতে আহ্বান জানান: রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ এবং পার্টির প্রতীক ‘দারিপল্লা’‑তে ভোট।
‘হ্যাঁ’ ভোটকে তিনি ‘সঠিক পথে অগ্রসর হওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন, আর ‘না’ ভোটকে ‘নির্যাতন ও দমন শুরু’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দল আবার দেশের ওপর ফ্যাসিস্ট শাসন আরোপের ষড়যন্ত্র করতে পারবে না।
রাত ৯:৪৫ টায় মুকসুদপুরের কলেজ মর বাস স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি ও ১১টি দলীয় জোটের গোপালগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোলানা মো. আবদুল হামিদকে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “আমি তার হাত তুলছি, এখন তোমরাও দাঁড়িয়ে তার জন্য লড়াই করো।”
ড. শফিকুরের ভাষণে তিনি একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পার্টির রাজনীতি দেশের সেবা ও উন্নয়নে নিবেদিত থাকবে বলে জোর দেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি এই মুহূর্তে ভোটারদের দ্বিগুণ ভোটের মাধ্যমে পার্টির লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ড. শফিকুর আগামী সপ্তাহে অন্যান্য নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন এবং ভোটার সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া পার্টির নীতি বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি।
দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ শেষে ঢাকা-১৫-এ শুরু হওয়া এই সিরিজের ক্যাম্পেইন পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি রেফারেন্ডামকে ভোটারদের সামনে স্পষ্ট করার লক্ষ্য রাখে। ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে পার্টি পরবর্তী প্রচারণা গঠন করবে।



