বর্ডার ২ চলচ্চিত্রের শেষের যুদ্ধ দৃশ্যের আলো নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে অসন্তোষের সাড়া পাওয়ার পর, পরিচালক অনুরাগ সিং এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাইম্যাক্সটি অন্ধকার দেখানোর উদ্দেশ্য নয়; এটি সন্ধ্যায় ঘটতে নির্ধারিত এবং প্রকৃত প্রজেকশন সমস্যার কারণে কিছু হলে অন্ধকার দেখাচ্ছে। অধিকাংশ থিয়েটারে দৃশ্যটি স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়।
অনুরাগ সিং জানান, আলো সমস্যার সমাধানে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমস্ত থিয়েটারকে ইমেইল পাঠিয়ে সমস্যার সমাধানের পদ্ধতি জানানো হয়েছে এবং যেখানে ক্লাইম্যাক্সের আলো কম দেখাচ্ছে, সেইসব স্থানে প্রিন্ট আপডেট করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের অন্যান্য দিকেও প্রশংসা ছড়িয়ে আছে, তবে বড় স্কেলের অ্যাকশন দৃশ্যের নির্মাণে বিশেষ চ্যালেঞ্জের কথা তিনি স্বীকার করেন। সময়ের যুদ্ধের পটভূমিতে ট্যাঙ্ক ও খাঁড়ি যুদ্ধের দৃশ্যগুলো শুটিংয়ের সময় কঠিনতা বাড়িয়ে দেয়। তবু তিনি বলেন, এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে কাজ করা তাকে আনন্দ দেয়।
বর্ডার ২-র অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলোতে ঐতিহাসিক সঠিকতা বজায় রাখতে বিশদ গবেষণা ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ট্রেঞ্চ যুদ্ধের পরিবেশ পুনরায় তৈরি করতে বিশেষ সেট ও প্রপস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের সময়ের সঙ্গে যুক্ত করে। ট্যাঙ্কের দৃশ্যগুলোতে বাস্তবিক মডেল ও ডিজিটাল ইফেক্টের সমন্বয় করা হয়েছে।
দর্শকরা যখন সিনেমা হলের অন্ধকারে বসে ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য দেখেন, তখন আলো কম দেখায় এমন অভিযোগ উঠে। অনুরাগ সিং জানান, এটি প্রজেকশন যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন সমস্যার ফল হতে পারে এবং থিয়েটারগুলোকে দ্রুত সমাধান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রযোজক দলও এই সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করে, এবং থিয়েটার চেইনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রিন্টের রঙ ও উজ্জ্বলতা সামঞ্জস্য করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে দর্শকরা প্রত্যাশিত আলো ও রঙের মান উপভোগ করতে পারবেন।
চলচ্চিত্রের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে যুদ্ধের কৌশল ও চরিত্রের বিকাশে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সমালোচকরা বলছেন, বর্ডার ২-র গল্পবর্ণনা ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে নতুনত্ব দেখা যায়। তবে আলো সমস্যার কারণে শেষের দৃশ্যের অভিজ্ঞতা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
অনুরাগ সিংয়ের মতে, সিনেমা হলের প্রযুক্তিগত দিকগুলোও চলচ্চিত্রের গুণমানের সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি থিয়েটার মালিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে এমন সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।
বর্ডার ২-র প্রি-রিলিজ প্রচারাভিযানেও আলো সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দর্শকদের কাছ থেকে সরাসরি ফিডব্যাক সংগ্রহ করা হয়। ফিডব্যাকের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা চলচ্চিত্রের সুনাম রক্ষায় সহায়তা করবে।
অবশেষে, অনুরাগ সিং চলচ্চিত্রের বড় স্কেলের অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক যুদ্ধের পরিবেশ পুনর্নির্মাণে যে পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা দরকার, তা তাকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকদের জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
বর্ডার ২-র আলো সমস্যার সমাধান ও অ্যাকশন দৃশ্যের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পরিচালক অনুরাগ সিংয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। থিয়েটারগুলোতে আপডেটেড প্রিন্ট শীঘ্রই চালু হবে, এবং দর্শকরা সম্পূর্ণ উজ্জ্বলতা ও রঙের সঙ্গে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন।



