পার্ল বোল্যান্ড পার্কে অনুষ্ঠিত ত্রিশোটা (T20) সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল ১৭৩ লক্ষ্য তাড়া করে ১৭.৫ ওভারে ৯ উইকেটের পার্থক্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলকে পরাজিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭৪ রান গড়তে হবে, আর তারা ১৭.৫ ওভারে ১৭৪ রান করে জয় নিশ্চিত করেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুর আক্রমণ প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। ওপেনার জনসন চার্লস ও ব্রেন্ডন কিং দ্রুতই আউট হয়ে গিয়ে দলকে প্রাথমিক চাপের মুখে ফেলেছিল। উভয়ই দ্রুতই গৃহস্থালির সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি, ফলে শুরুর গতি হ্রাস পায়।
মধ্যমঞ্চে শেরফান রাদারফোর্ড ও ম্যাথু ফোর্ডের দ্রুত আউট হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দলটি ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে, ফলে স্কোর দ্রুত বাড়তে পারে না।
ষষ্ঠ উইকেটে রভম্যান পাওয়েল ও শিম্রন হেটমায়ের ৭৪ রানের জুটি দলকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল করে। হেটমায়ার ৪টি চতুর্থ এবং ৩টি ছক্কা মারিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান সংগ্রহ করেন। এই অংশীদারিত্বের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তবে শেষের দিকে গতি কমে যায়।
অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৭ উইকেটের সঙ্গে ১৭৩ রান করে শেষ করে। লক্ষ্য ১৭৪ ছিল, ফলে তারা এক রান কমে শেষ হয়। রোস্টন চেজ একমাত্র উইকেটটি নেন, যা দলের একমাত্র সাফল্য হিসেবে রয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের শিকড়ে শক্তিশালী ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখা যায়। পাওয়ারপ্লে পর্যায়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে দল ৬৮ রান সংগ্রহ করে, যা শুরুর দিকে আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
লুয়ান দে প্রিটোরিয়াস ও অধিনায়ক মার্করামের উদ্বোধনী জুটি ৮৩ রান তৈরি করে। প্রিটোরিয়াস ২৮ বলে ৪৪ রান করেন, তবে তার দ্রুত আউট হওয়ায় দলকে বড় পার্থক্য তৈরি করতে বাধা দেয়।
মার্করাম ৯টি চতুর্থ এবং ৩টি ছক্কা মারিয়ে ৮৬ রান সংগ্রহ করেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে লক্ষ্য তাড়া করতে মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। তার আক্রমণাত্মক শটগুলো দলকে দ্রুত স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
রায়ান রিকেলটন ৪০ বলে ৩২ রান যোগ করেন, যা মার্করামের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তার স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকাকে চূড়ান্ত জয়ের দিকে নিয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের বলদলেও পারফরম্যান্স উজ্জ্বল ছিল। জর্জ লিন্ডে ২৫ রান খরচে ৩ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। কেশভ মহারাজ ও করবিন বশ প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বলদলও কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে স্কোর সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি। রোস্টন চেজের একমাত্র উইকেট ছাড়া অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভাঙন ঘটেনি।
এই জয়ের পর, সিরিজের দ্বিতীয় T20 ম্যাচটি আগামীকাল সেঞ্চুরিতে অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দলই পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের শক্তি প্রমাণের সুযোগ পাবে, এবং ভক্তদের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেটের প্রত্যাশা থাকবে।



