কমিল্লা শহরের আশোক্তলা রেল গেটের দক্ষিণ পাশে শনিবার সন্ধ্যায় একটি অচেনা দেহ উদ্ধার করা হয়; পরে তা কমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাঃ কাওসার তাহমিদ বলে শনাক্ত হয়। দেহটি উদ্ধার করার পর স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ পোস্টের ইন-চার্জ সাব-ইনস্পেক্টর সাহিদার রহমানের নির্দেশে পোস্ট-মর্টেম করা হয় এবং দেহটি অপ্রত্যাশিত মৃতদেহ হিসেবে অঞ্জুমান‑এ‑মোফিদুল ইসলাম সংস্থার হস্তে অর্পণ করা হয়।
সংস্থাটি দেহটি টিক্কারচর কবরস্থানে রবিবার দাফন করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে দেহের পরিচয় নিশ্চিত করে, যা জাতীয় পরিচয়পত্রের রেকর্ডের সঙ্গে মিলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় দেহের মালিকের নাম ও পেশা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে দেহের পরিচয় না পাওয়ায় পরিবারকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে; দেহের আত্মীয়দের ঠিকানা পরিবর্তনের ফলে পুলিশ দ্রুত কোনো সংযোগ স্থাপন করতে পারে না। ফলে দেহটি অপ্রত্যাশিত মৃতদেহ হিসেবে বিবেচিত হয়ে প্রথমে টিক্কারচর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ময়মনসিংহের একটি পুলিশ কর্মকর্তা সামাজিক মাধ্যমে দেহের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য শেয়ার করার পর, মৃতদেহের পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশে যোগাযোগ করেন। তাদের জানার মাধ্যমে দেহের পরিচয় নিশ্চিত হয় এবং পরিবারকে অবহিত করা হয়।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর, অতিরিক্ত কমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরীর অনুমোদনে দেহটি টিক্কারচর কবরস্থান থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়। পুনঃদাফনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেহটি পুনরায় উত্তোলন করা হয় এবং পুনরায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ডাঃ কাওসার তাহমিদের পিতা নাজরুল ইসলাম দেহটি নিয়ে ময়মনসিংহে গিয়ে শেষ সমাধি করেন। পুনঃদাফনের কাজটি গতকাল বিকেলে সম্পন্ন হয় এবং দেহটি ময়মনসিংহে পরিবারের হাতে সমাপ্তি পায়।
সাব‑ইনস্পেক্টর সাহিদার রহমানের মতে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে; তবে চূড়ান্ত মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য শেষ পোস্ট‑মর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ডাঃ কাওসার তাহমিদ কমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের ইন্টার্ন ডাক্তার ছিলেন এবং তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সেবা দিচ্ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলা থেকে আসা; তার কোনো সন্তান নেই।
তাহমিদের চাচা মোহাম্মদ লিটন জানান যে, মৃত ডাক্তারটি সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। এই তথ্যটি পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া যায় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানুয়ারি মাসে কমিল্লা শহরে এসে ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাতে দেহের পুনঃদাফন ও শেষ সমাধি সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গুরুতর তদন্তের অধীনে কমিল্লা গ্রাম পুলিশ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাটির সকল দিক বিশ্লেষণ করছেন। বর্তমানে আত্মহত্যা সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত চালু রয়েছে এবং চূড়ান্ত মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।



