সাম্প্রতিক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে চীনে সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকার ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা শি জিনপিংকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। একই সময়ে চীনের সামরিক শীর্ষে একাধিক জেনারেলকে বরখাস্ত বা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত কয়েক মাসে চীনা সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পদত্যাগ বা শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত নাম হল জেনারেল ঝাং ইউশিয়া, যিনি সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরের এক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝাংয়ের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত গোপন তথ্য বিদেশে বিক্রি করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া তিনি পদোন্নতির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগেও মুখোমুখি হয়েছেন। সরকার এই অভিযোগগুলোকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের পদচ্যুতি ও তদন্তের পেছনে শি জিনপিংয়ের শাসনকাল দীর্ঘায়িত করার জন্য ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ একটি কৌশল হতে পারে। জেনারেলদের বদলে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বের গঠন পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদেরকে প্রধান দায়িত্বে রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু ব্যবহারকারী এই পরিবর্তনকে সামরিক কূপের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক ইউনিটের পক্ষ থেকে শি জিনপিংকে সরিয়ে দেওয়ার সরাসরি প্রচেষ্টা বা পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই দাবিগুলোকে বর্তমানে ভিত্তিহীন গুজব হিসেবে বিবেচনা করছেন।
চীনের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে তাইওয়ান, এই পরিবর্তনগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাইওয়ানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, চীনের সামরিক কাঠামোর অস্বাভাবিক রদবদল কোনো অভ্যুত্থান নয়, বরং অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের অংশ। তারা সতর্কতা জানিয়েছেন যে এই ধরনের পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাইওয়ান বা অন্য কোনো অঞ্চলে হঠাৎ আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ইঙ্গিত নয়, তবে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ভবিষ্যতে চীনের সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আসতে পারে, যা শি জিনপিংয়ের নীতি ও কৌশলকে সমর্থন করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য সূত্র থেকে সরাসরি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নের তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়িয়ে বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, চীনের সামরিক শীর্ষে ঘটমান পদচ্যুতি ও তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ক্ষমতার সংহতি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গুজবের চেয়ে বাস্তবিক পরিবর্তনগুলোই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



