বহু বছর ধরে বলিউড ও টলিউডের সুরের জগতে স্বরলিপি রচনা করা অরিজিৎ সিং, ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়কের কাজ থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে, শোয়ারা হিসেবে বছরের পর বছর যে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট করে বলেন যে আর কোনো নতুন প্লেব্যাক প্রকল্পে অংশ নেবেন না।
অরিজিৎ সিং-এর এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সঙ্গীত জগতের বহু শিল্পী ও ভক্ত বিস্মিত হয়েছেন। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই পথচলা তার জন্য সত্যিই চমৎকার ছিল, তবে এখন তিনি এই অধ্যায়টি শেষ করতে চান। তার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো সঙ্গীত সংক্রান্ত কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন, তবে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আর কাজ করবেন না।
সঙ্গীত জগতে অরিজিৎ সিংকে বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি ‘চান্না মেরেয়া’, ‘মুসকুরানে’ মতো হৃদয়স্পর্শী বালাড গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন, আর ‘দিল্লিওয়ালি গার্লফ্রেন্ড’, ‘ঘুনঘুর’ মতো উচ্ছল ট্র্যাকের মাধ্যমে নাচের তালে তালে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। শাস্ত্রীয় সুর থেকে রক, জ্যাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার গানে তিনি সমানভাবে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, যা তাকে সমসাময়িক সঙ্গীতের অন্যতম বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী করে তুলেছে।
তার ক্যারিয়ার দশকের বেশি সময় ধরে চলেছে এবং এই সময়ে তিনি শত শত চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকের অংশ হয়েেছেন। অরিজিৎ সিং-এর স্বরলিপি প্রায়শই সিনেমার গল্পের সঙ্গে সুনিপুণভাবে মিশে যায়, ফলে দর্শকরা গানের সঙ্গে ছবির আবেগকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন। তার কণ্ঠে যে স্বাভাবিকতা ও আবেগের মিশ্রণ থাকে, তা তাকে অন্যান্য প্লেব্যাক গায়কদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
অবসর ঘোষণার পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র রকমের হয়েছে। কিছু ভক্ত তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে, ভবিষ্যতে তার নতুন সৃষ্টিকর্মের অপেক্ষা করেন, আবার অন্যরা তার সুরের অভাব অনুভব করে এবং পুনরায় গায়কের দায়িত্বে ফিরে আসার আবেদন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্টের নিচে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে কেউ তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ারকে স্মরণ করে, আবার কেউ নতুন সঙ্গীতের সন্ধানে আছেন।
অরিজিৎ সিং-এর এই সিদ্ধান্ত সঙ্গীত শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। যদিও তিনি প্লেব্যাক গায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন, তবু তার সৃষ্টিকর্মের প্রভাব ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের গায়ক-গানশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার বিদায়ের মুহূর্তটি সঙ্গীত জগতে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে, এবং তার স্বরলিপি এখনও বহু হৃদয়ে গুঞ্জরাবে।
ভবিষ্যতে অরিজিৎ সিং কী ধরনের সঙ্গীত প্রকল্পে যুক্ত হবেন তা এখনো অজানা, তবে তার বিদায়ের ঘোষণার মাধ্যমে তিনি যে স্বচ্ছতা ও সম্মান বজায় রেখেছেন, তা শিল্পের অন্যান্য সদস্যদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। সঙ্গীতপ্রেমীরা তার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রইল, আর তার সুরের স্মৃতি সবার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।



