28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাঙ্গামাটির গহীন জঙ্গলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইউপিডিএফ গোপন আস্তানা ধ্বংস

রাঙ্গামাটির গহীন জঙ্গলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইউপিডিএফ গোপন আস্তানা ধ্বংস

রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালি উপজেলায় কলাপাড়া ও নাইল্লাছড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউপিডিএফ (মূল) শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করেছে। অভিযানটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা।

সকালবেলায় গোয়েন্দা সূত্রের নিশ্চিতকরণে সেনাবাহিনী দ্রুত রওনা হয়। বহু ইউনিট সমন্বিত দল রাঙ্গামাটির ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা সেনা সদস্যদের উপস্থিতি দেখে তৎক্ষণাৎ পিছু হটে।

সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার পর দলটি আস্তানার অবশিষ্ট কাঠামো পরীক্ষা করে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় গোপন স্থাপনা বহু রকমের সশস্ত্র সুবিধা নিয়ে গঠিত।

সেই সুবিধাগুলোর মধ্যে চারটি রাইফেল ট্রেঞ্চ, তিনটি পর্যবেক্ষণ চৌকি এবং তিনটি বিশ্রাম এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেনাবাহিনী বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার করে সব কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে। ধ্বংসকাজের ফলে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে।

ধ্বংসকৃত রাইফেল ট্রেঞ্চগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী গুলিবর্ষণ পরিকল্পনা করা হতো বলে অনুমান করা হয়। পর্যবেক্ষণ চৌকি গুলো জঙ্গলের উচ্চ স্থানে গড়ে তোলা ছিল, যা থেকে শত্রু চলাচল নজরদারি করা যেত। বিশ্রাম এলাকা সন্ত্রাসীদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ও পুনরায় সজ্জিত হওয়ার স্থান হিসেবে কাজ করত।

ধ্বংসকাজের পর সেনাবাহিনী ওই স্থানে অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করে। বেস ক্যাম্পটি ভবিষ্যৎ নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে নির্বাচিত হয়েছে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পেট্রোলিং চালু করা হবে।

অভিযানটি দেশের সামগ্রিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পূর্বে একই অঞ্চলে অনুরূপ অপারেশন চালিয়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে দুর্বল করেছে। এই পদক্ষেপগুলো সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম সীমিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অভিযানের ফলাফল ও ধ্বংসকৃত কাঠামোর ছবি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। পেজে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেটও সরবরাহ করা হয়েছে।

অভিযান পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বয়ে অতিরিক্ত তদন্ত চালাবে। ধ্বংসকৃত স্থানের বিশ্লেষণ ও সন্ত্রাসীদের সম্ভাব্য অবশিষ্ট অস্ত্রের সন্ধানে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে অব্যাহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।

এই ধরনের সফল অপারেশন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মনোবল হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ধরণের পদক্ষেপকে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর শক্তিশালীকরণে ইতিবাচক বলে বিবেচনা করেন।

রাঙ্গামাটির গহীন জঙ্গলে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় নতুন সাফল্য যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি মোকাবেলায় মডেল হিসেবে কাজ করবে। অবশিষ্ট সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস ও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত অপারেশন চালিয়ে যাওয়া হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments