খুলনা শহরের পূর্ব রূপসা এলাকায় মীনা বাড়ি মোড়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শিকার ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী মাছ ব্যবসায়ী মামুন অর রশিদ, যাকে স্থানীয় নামে বাবু বলে ডাকা হয়।
মামুন অর রশিদ খুলনা নগরীর নতুন বাজার এলাকার আবু বক্করের ছেলে, স্থানীয় মাছের ব্যবসা চালান। গুলির সময় তিনি মীনা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং হঠাৎ একদল অপরিচিত ব্যক্তি তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালায়।
গোলির প্রভাব তার বাম কাঁধে পড়ে, ফলে রক্তপাত এবং শারীরিক আঘাতের শিকার হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় রাস্তায় থেকে উদ্ধার হন এবং সঙ্গে সঙ্গে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে তিনি পর্যবেক্ষণাধীন আছেন এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
রূপসা থানার সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম গুলির ঘটনার পর দ্রুত现场ে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, গুলির সঠিক কারণ এবং লক্ষ্যবস্তু এখনও স্পষ্ট হয়নি, তবে তদন্তের মাধ্যমে motive নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার স্থান মীনা বাড়ি মোড়টি রূপসা বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে সন্ধ্যাবেলা মানুষজনের চলাচল বেশ সক্রিয় থাকে। গুলির সময় এলাকায় কিছু গাড়ি ও পায়ে হেঁটে চলা লোকজন উপস্থিত ছিলেন, তবে কোনো সাক্ষী গুলিবিদ্ধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেননি।
পুলিশ গুলিবিদ্ধের পরে স্থানীয় ক্যামেরা রেকর্ড এবং মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে গুলি চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
আশরাফুল আলম উল্লেখ করেন, গুলির পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী motive নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশের অনুসন্ধান দল গুলি চালানো সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার জন্য এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইনি দিক থেকে গুলিবিদ্ধের অপরাধটি হিংসাত্মক অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। গুলি চালানো ব্যক্তিরা যদি ধরা পড়ে, তবে তারা দণ্ড এবং কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু প্রতিবেশী গুলি চালানোর সময়ের নিকটবর্তী ক্যামেরা রেকর্ড সংরক্ষণ করে পুলিশকে প্রদান করেছেন।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের পরপরই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিবেশীরা আহতকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন এবং তার পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। এই ধরনের সহায়তা সম্প্রদায়ের সংহতি বাড়িয়ে তুলেছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের হিংসা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই ঘটনাটি খুলনা শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত হিংসাত্মক অপরাধের একটি উদাহরণ, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং সম্প্রদায়ের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



