ডা. আমির শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের আমির, ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাস স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত পথসভায় দলের অতীতের ভুলগুলো ক্ষমা করে ভবিষ্যৎ নীতি ঘোষণা করেন। তিনি দক্ষিণ‑পশ্চিম অঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পথে এই বক্তব্য দেন।
প্রচারণা সফর শেষে দলীয় কর্মীরা মুকসুদপুর কলেজ মোড়ে একত্রিত হয়ে আমিরের আগমনকে স্বাগত জানায় এবং স্লোগান গুঞ্জন করে পরিবেশকে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তোলেন। উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা “জয় বাংলা” ও “একতা, অগ্রগতি” স্লোগানে মুখরিত হয়ে দলীয় পতাকা উড়িয়ে তুলেছিলেন।
ডা. আমির শফিকুর রহমান বলেন, “অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা তা দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিলাম।” তিনি অতীতের বিরোধ ও অভিযোগকে পেছনে ফেলে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই কথায় তিনি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়াবো না” এবং এ কথা তিনি দলের শাসন নীতি হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দলীয় সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ডা. আমির শফিকুর রহমানের মতে, “ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।” এই বক্তব্যে তিনি আর্থিক দুর্নীতি ও বাজারের অনৈতিক চর্চা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পথসভায় তিনি বললেন, “দোষারোপ, তোষামদি, ধোঁকা‑মিথ্যাবাদী ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।” এই মন্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
ডা. আমির শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “৫ তারিখের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে দুঃখকষ্ট পাওয়া দল হলো জামায়াত-এ-ইসলামি।” তিনি স্বীকার করেন, নির্বাচনের পূর্বে দলটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে তিনি যোগ করেন, “৫ তারিখের পর আমরা সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, আশ্বস্ত করেছি, সাহস জুগিয়েছি—এ দেশে সবাই সমান, অধিকারও সমান।” এই বক্তব্যে তিনি নির্বাচনের পর দলের অন্তর্ভুক্তি ও সমতা নীতি তুলে ধরেছেন।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয় প্রকাশ করে তিনি বললেন, “আগামীর প্রজন্মের জন্য হিংসামুক্ত, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জালিমকে কারও দিকে হাত বাড়াতে দেব না।” এই মন্তব্যে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার রক্ষার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পথসভা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিট থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা ও কর্মীরা মিছিল নিয়ে আসেন এবং বাস স্ট্যান্ডে সমাবেশে যোগ দেন। উপস্থিত ভক্তরা স্লোগান গেয়ে দলীয় সমর্থন দৃঢ় করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ, এপিবিএন সদস্য এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থা অতিরিক্ত নজরদারি চালু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি পথসভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং সম্ভাব্য অশান্তি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
এই প্রকাশনা জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনমত গঠন করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দলীয় নেতৃত্বের এই প্রকাশনা নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মঞ্চে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো পর্যবেক্ষণ করা হবে।
দলটি আগামী সময়ে জাতীয় ঐক্য, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে নীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তার কৌশল নির্ধারণ করবে।



