বাংলাদেশের অ্যান্ডারসন টাইজারস আইসিসি ইউ‑১৯ বিশ্বকাপের প্রথম সুপার‑সিক্স ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে শীঘ্রই টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়ে। দলটি খারাপ পারফরম্যান্স এবং বৃষ্টির প্রভাবিত ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণসূচির অতিরিক্ত ক্লান্তিকরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রথম পর্যায়ে ধারাবাহিকতা না থাকা এবং বৃষ্টির কারণে রিডাকশন হওয়া ম্যাচগুলো দলের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মতে, সবচেয়ে বড় বাধা ছিল টুর্নামেন্টের সময়সূচিতে আরোপিত দীর্ঘ ভ্রমণ।
ক্রীড়া উন্নয়ন সমন্বয়ক কবিরুল বাশার উল্লেখ করেন, “ভ্রমণসূচি নিয়ে আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, তবে এটা সত্যি যে দলকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করে তুলেছে।” তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি দলের পারফরম্যান্সের হিসাব‑কিতাবের দোষ স্বীকার করেন।
বাংলাদেশের দল ৬ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ে যাত্রা শুরু করে এবং ১০ ও ১৩ জানুয়ারি মাসভিঙ্গো ও হারারে দুইটি ওয়ার্ম‑আপ ম্যাচে পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়। মাসভিঙ্গো থেকে হারারে প্রায় চার ঘণ্টার ড্রাইভ, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে দুইবার পুনরাবৃত্তি করতে হয়।
এই বছর আইসিসি টুর্নামেন্টের সময় দেশীয় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করে, ফলে সব দল, কর্মকর্তা ও স্টাফকে বাসে ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হয়। বাসে দীর্ঘ যাত্রা টুর্নামেন্টের শারীরিক চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।
গ্রুপ বি ম্যাচের জন্য দলকে ১৭ ও ২০ জানুয়ারি হারার থেকে বুলাওয়ায়ো পর্যন্ত প্রায় নয় ঘণ্টার বাস যাত্রা করতে হয়, যা মৌসুমী বৃষ্টির সময়ে আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এই কঠিন যাত্রা খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার সময়কে সীমিত করে দেয়।
দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে—দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে এবং খরচ বহন করে। সরাসরি ফ্লাইটের অভাব এবং দীর্ঘ বাস যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনা করে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়।
কবিরুল বাশার বলেন, “ভারত ম্যাচের আগে ছেলেদের অতিরিক্ত ক্লান্তি রোধ করতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিজস্ব খরচে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে, কারণ বাস যাত্রা ছিল খুব দীর্ঘ এবং সরাসরি ফ্লাইটের সুযোগ কম ছিল।” এই ব্যবস্থা দলের শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
ইংল্যান্ডের সঙ্গে সুপার‑সিক্সের আগে, দলটি ২৩ জানুয়ারি আবার বাসে হারারে ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছে। এরপর ২৬ জানুয়ারি আবার বুলাওয়ায়োতে বাসে গিয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়। ইংল্যান্ডের পর দলটি আবার বাসে হারারে ফিরে এসে হোস্ট জিম্বাবুয়ের সঙ্গে শেষ ম্যাচের প্রস্তুতি নেয়।
এই ধারাবাহিক বাস যাত্রা, বিশেষত বৃষ্টিকালীন মৌসুমে, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইটের ব্যবস্থা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, মোট ভ্রমণসূচি এখনও অপ্রতুল বলে সমালোচকরা মত প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ইউ‑১৯ দলকে আইসিসি নির্ধারিত কঠোর ভ্রমণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হয়েছিল, যা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মতে, এই অতিরিক্ত ভ্রমণসূচি টুর্নামেন্টের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে এবং ভবিষ্যতে ভ্রমণ নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।



