সৌদি আরবের রাজকুমার মোহাম্মদ বিন সালমান রায়াধের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করে জানিয়েছেন, রিয়াদ তার আকাশ বা ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।
বিন সালমানের বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে পার্থক্যগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার প্রচেষ্টা সমর্থন করার ইঙ্গিত রয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইরানি মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী পেজেশকিয়ান রিয়াদের কাছে জানিয়েছেন, তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে যেকোনো প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাবে, যা যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে পারে।
সৌদি আরবের এই অবস্থানকে অনুসরণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই রকম ঘোষণা দিয়েছে, তারা তাদের আকাশ ও সামুদ্রিক সীমা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজের অনুমতি দেবে না।
এই ঘোষণাগুলো আসে এমন সময়ে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের দিকে একটি “বহর” পাঠানোর কথা উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেন, তবে তিনি তা ব্যবহার না করার আশাও প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, বিশেষ করে তিনি ইরানের প্রতিবাদকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করার বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে ইরানে সম্প্রতি প্রতিবাদগুলো হ্রাস পেয়েছে, যা ট্রাম্পের পূর্বাভাসের বিপরীত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়।
মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ক্যারিয়ার জাহাজ ও তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
এই নৌবাহিনীর উপস্থিতি মার্কিন বাহিনীর রক্ষার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে, পাশাপাশি ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে, যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে যে নিরাপত্তা বাহিনী হাজারো মানুষ, যার মধ্যে নিরপরাধ নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত, নিহত করেছে।
এই দমনকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে বড় রক্তপাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অস্থিরতাকে আন্তর্জাতিক নজরে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি সরকার এই বিশৃঙ্খলার দায়িত্বকে “সন্ত্রাসী ও দাঙ্গা চালানো লোকদের” উপর আরোপ করেছে, যাদের সমর্থন দেশ থেকে বেরিয়ে আসা বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষে রয়েছে বলে তারা দাবি করে।
বহু দেশের নজরে এই পরিস্থিতি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর উপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশিক সীমা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজ না করার সিদ্ধান্ত কীভাবে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে তা বিশ্লেষণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, সৌদি ও আমিরাতের এই রূপরেখা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতা অঞ্চলকে অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে দিতে পারে।



