মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর জেলার প্রান্তিকপাড়া বস্তিতে পানির ট্যাপ নিয়ে দুই মহিলার মধ্যে তর্কে ঝড় উঠার পর, ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে এক প্রতিবেশী নিহত হন। ওই সময়ে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট সাতজনকে গ্রেফতার করে।
মৃত্যুর শিকার হন মো. নাসিরুদ্দিন বাসু, বয়স ৪৫, যিনি বস্তির আত্তাব মুন্সির পুত্র। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং ট্যাপের পানি নেওয়ার সময় সংঘটিত ঝগড়া থামাতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বিবাদটি শুরু হয় সরকারি ট্যাপ-কল থেকে পানি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নূরি বেগম ও লাইলি বেগমের মধ্যে। উভয় পক্ষই পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরের সঙ্গে তীব্রভাবে তর্ক করে, যা দ্রুতই শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
নূরি বেগমের বাড়ির লোকজন নাসিরুদ্দিনকে হস্তক্ষেপকারী হিসেবে দেখেন এবং তাকে বেধড়ক দিয়ে মারধর করে। আক্রমণটি বেশ কঠোর হয়, ফলে নাসিরুদ্দিন গুরুতর আঘাত পেয়ে স্থানীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে গুরুতর বলে জানিয়ে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ঘোষণার পর পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করে, তবে ঘটনাটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে ত্বরান্বিত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারভাইজার ওয়াসিম ফিরোজের নির্দেশে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো দল দ্রুত সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় নূরি বেগম, তার স্বামী মো. বাবু, খাতিজা বেগম, মো. নিয়াজ, মেহেদী, রফিক এবং রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সকল ব্যক্তি প্রান্তিকপাড়া বস্তির বাসিন্দা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত, যাদের নাম মূল সংবাদে যেমন উল্লেখ আছে তেমনই রাখা হয়েছে।
পুলিশের মতে, নূরি বেগমের বাড়ির লোকজন নাসিরুদ্দিনকে আক্রমণ করার সময়ই ঘটনাটি ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দ্রুত তদন্ত চালু করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, গ্রেপ্তারের পরপরই মামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা জারি করেছে। পানির ট্যাপের মতো মৌলিক সেবার ব্যবহার সংক্রান্ত বিরোধে শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যান্য বস্তিতে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল চালু করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সহযোগিতা করতে এবং কোনো ধরনের হিংসা এড়াতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মামলার অগ্রগতি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা চলমান। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে মামলার শুনানি হবে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।



