শাফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমীর, গতকাল খুলনা সর্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে দলটির অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো সংঘাতের উদ্রেক করতে চায় না, তবে যদি কোনো দল বা গোষ্ঠী তাদের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে তারা সাড়া দেবে।
সমাবেশে তিনি একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করে সমালোচনা করেন, যে সংগঠন একদিকে পরিবারিক কার্ড বিতরণ করে, অন্যদিকে নারীদের ওপর হিংসা চালায়। শাফিকুরের মতে, এমন দ্বৈত আচরণ দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে।
তিনি সকলকে আহ্বান জানান, যারা মায়ের মর্যাদা হ্রাস করেছে, তারা ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা দরকার। অতীতের এমন আচরণে যারা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শেষ ফলাফল অনুকূল হয়নি, এ কথাটি তিনি জোর দিয়ে বলেন।
একই দিনে শাফিকুর জাশোর ঈদগাহ মাঠে আরেকটি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে রাজনীতির ‘বংশগত’ ধারা শেষ করার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি শাসনে আসলে দেশের রাজনীতিতে বংশগত প্রথা আর থাকবে না এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যে দলগুলো নিজেদের কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ, তারা দেশের শাসন সামলাতে পারবে না। শাফিকুর জোর দিয়ে বলেন, যদি অন্য দলগুলো প্রথমে নিজেদের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করে, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি তাদের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি দলটির নীতি‑নির্দেশকে সত্য, ন্যায় এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই নীতি অনুসারে, জামায়াত-এ-ইসলামি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে রূপান্তরিত করতে চায়।
শাফিকুর সাম্প্রতিক ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনের ফলাফলও উল্লেখ করেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত ছাত্র শিবিরের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে, যা তিনি তরুণ ভোটারদের ন্যায় ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্তের সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, সত্যিকারের সংস্কার চাইতে চাইলে তরুণরা জামায়াত-এ-ইসলামির পাশে থাকবে। আজকের যুবসমাজ পুরাতন ও নতুন উভয় ধরনের ফ্যাসিবাদে একত্রিত হয়ে বিরোধিতা করছে এবং পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
শাফিকুরের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে; একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারকে সমর্থন করা হবে, অন্যটি নতুন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করবে। তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে স্বাধীনতার প্রতীক এবং ‘না’ ভোটকে দাসত্বের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এই ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে শাফিকুর আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ সত্যিকারের পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
শাফিকুরের এই বক্তব্যগুলো দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে তিনি শাসনক্ষমতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একতাবদ্ধতা আহ্বান করেছেন। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল এবং জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক কৌশল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে।



