স্পেনের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের বেকারত্বের হার দশ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, বেকারত্বের হার ৯.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পূর্ব প্রান্তিকের তুলনায় ০.৫২ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস। এই ফলাফলটি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর প্রথমবারের মতো দশ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে, যা দেশের শ্রম বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।
সংস্থার রিপোর্টে স্পেনের শ্রমশক্তির মোট সংখ্যা প্রায় দুই কোটি পঁচিশ লাখের কাছাকাছি, যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান স্তর হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। কর্মসংস্থানের এই বৃদ্ধির ফলে বেকারত্বের হার হ্রাস পেয়েছে এবং শ্রমবাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হয়েছে। সরকার এই ফলাফলকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরছে।
বামপন্থী সরকার এই অর্জনকে ২০০৮ সালের পর প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে উদযাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, দশ শতাংশের নিচে বেকারত্বের হার প্রথমবারের মতো অর্জিত হয়েছে এবং এটি দেশের কর্মসংস্থান নীতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার ফলাফল। সরকার এই সূচককে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
বেকারত্বের হ্রাসের সরাসরি প্রভাব ব্যবসা ও বাজারে স্পষ্ট। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি মানে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়া, যা রিটেইল, হসপিটালিটি ও সেবা খাতে চাহিদা ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে, শ্রমিকের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু সেক্টরে মজুরি বৃদ্ধির চাপ দেখা দিতে পারে, যা উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলবে। তবে, উচ্চ কর্মসংস্থান স্তর উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা মার্জিনকে সমর্থন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
পর্যটন ও গৃহনির্মাণের মতো শ্রম-নির্ভর শিল্পগুলো বিশেষভাবে উপকৃত হবে। স্পেনের পর্যটন শিল্প ইতিমধ্যে পুনরুদ্ধার পর্যায়ে রয়েছে, এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সেবা মানের উন্নতি ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াতে সহায়তা করবে। গৃহনির্মাণে শ্রমিকের ঘাটতি সাময়িকভাবে প্রকল্পের সময়সূচি বিলম্বিত করতে পারে, তবে উচ্চ চাহিদা বজায় থাকলে নতুন কর্মী প্রশিক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়তা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, বেকারত্বের হ্রাসের পেছনে স্বল্পমেয়াদী নীতি প্রণোদনা ও সরকারি ব্যয় থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই না হলে পুনরায় বেকারত্বের হার বাড়তে পারে। তাই, সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে শ্রমশক্তির গুণগত মান উন্নত করতে হবে। এছাড়া, ইউরো জোনের মুদ্রা নীতি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তন স্পেনের রপ্তানি ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বেকারত্বের প্রবণতাকে পুনরায় পরিবর্তন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ চতুর্থ প্রান্তিকে স্পেনের বেকারত্বের হার ১০% এর নিচে নেমে আসা একটি ইতিবাচক সংকেত, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভোক্তা ব্যয়ের উন্নতি নির্দেশ করে। তবে, এই সাফল্যকে টেকসই করতে শ্রমবাজারের কাঠামোগত উন্নয়ন, মজুরি ও উৎপাদনশীলতার ভারসাম্য রক্ষা এবং বহিরাগত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বেকারত্বের হার কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা নির্ভর করবে সরকারী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা ও গ্লোবাল অর্থনৈতিক পরিবেশের উপর।
সূত্র: এএফপি।



