বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দলকে ভারতে পাঠাতে না পারায় আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বদলি করে দিয়েছে।
দলটি মূলত ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য গিয়েছিল, যেখানে অন্যান্য টিমের সঙ্গে শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় যে দলকে ভারতে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপের তালিকা থেকে বাদ পড়ে এবং আইসিসি ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্কটল্যান্ডকে নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে জানায়।
একজন খেলোয়াড়, যিনি নিজের নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, তিনি বললেন যে এখন কোনো ম্যাচের প্রস্তুতি নেই এবং ফিটনেস বজায় রাখার জন্য বাড়ির কাছের মাঠে গিয়ে নিজে চেষ্টা করছেন।
তিনি যোগ করেন, “বাড়ির কাছেই মাঠ আছে। সেখানে গিয়ে ফিটনেসটা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। খেলার তো কোনো খবর নেই!” এই মন্তব্য থেকে দেখা যায় যে খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন রুটিনে বড় পরিবর্তন এসেছে।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুরের দিকে গিয়ে দেখা গেল, প্রস্তুতি মাঠে কোনো ব্যস্ততা নেই; সবেধন নীলমণি একাডেমি মাঠেও খেলোয়াড়দের কোনো অনুশীলন দৃশ্য দেখা যায়নি।
একাডেমি মাঠে ঘাস কাটার কাজ ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি, যা সাধারণত প্রশিক্ষণ সেশনের সময় ব্যস্ত থাকে।
মাঠের চারপাশে কোনো খেলোয়াড়ের গতি-গতিবিধি, ব্যাটিং বা বলিং সেশন দেখা যায়নি; এমন শূন্যতা দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা প্রকাশ করে।
এদিকে, মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে কর্মচারীদের কাজের গতি কমে যাওয়া লক্ষ করা গেছে। কিছু কর্মী জানান, দেশের ক্রিকেটের ধীর গতি তাদের কাজের তীব্রতাও হ্রাস করেছে।
একজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি গম্ভীর স্বরে বললেন, “সবাই আসলে জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। একেকজনের একেক রকম স্বার্থ। পুরো বিষয়টা তো নির্বাচনের পরই পরিষ্কার হবে। এখন তাই সবাই-ই একটু চুপচাপ থাকতে চাইছে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রিকেটের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি নির্বাচনের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, দলকে প্রস্তুত করতে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ফলস্বরূপ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে থেমে গেছে।
বিশ্বকাপে না থাকার শক পুরো দেশের ক্রিকেটে ছড়িয়ে পড়েছে; ভক্তদের মধ্যে হতাশা এবং প্রশ্নের স্রোত বাড়ছে যে ভবিষ্যতে কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিরে আসা যাবে।
কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না হওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা ও মানসিক প্রস্তুতি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরবর্তী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবিসি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এখন পর্যন্ত কোনো বিকল্প পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, ফলে দলীয় কৌশল ও খেলোয়াড়ের ভূমিকা নির্ধারণে অস্বচ্ছতা রয়ে গেছে।
আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বদলি করার সিদ্ধান্তের পরে, স্কটল্যান্ডের দল ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এখন কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ নেই।
এই পরিস্থিতি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ধীর করে দিয়েছে; প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একাডেমি এবং কোচিং স্টাফের কাজও প্রভাবিত হয়েছে।
কয়েকজন খেলোয়াড়ের বাড়ি গ্রামাঞ্চলে, আবার অন্যরা ঢাকায় অবসর সময় কাটাচ্ছেন; তাদের দৈনন্দিন রুটিনে এখন কোনো দলীয় সমন্বয় নেই।
বিবিসি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের পরই ক্রিকেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্ট হবে, ফলে বর্তমান সময়ে সবাই শান্তভাবে অপেক্ষা করছে।
এই অস্থিরতা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া, প্রস্তুতি মাঠের শূন্যতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একসাথে দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা চিত্রিত করে।



