ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নূরি আল‑মালিকিকে বেছে নিলে মার্কিন সরকার আর সহায়তা বন্ধ করবে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মালিকির শাসনামলে দেশ দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার দিকে গিয়ে পৌঁছেছিল এবং আর এভাবে চলতে না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া ইরাকের কোনো সাফল্য হবে না।
শিয়া-নেতৃত্বাধীন পার্টি জোটের সমর্থনে মালিকি সপ্তাহান্তে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীরূপে নাম নেন। এই জোটকে “কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক” বলা হয় এবং তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রার্থীর নাম প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, মালিকি “খুবই খারাপ পছন্দ” এবং তার শাসনামলে ইরাকের অবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল। তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ইরাকের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলতে না চাইলে মার্কিন সাহায্য বন্ধ করা হবে বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেন।
মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার সময় সেক্টারিয়ান সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের আক্রমণে দেশের বড় অংশ দখল হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
ইরাকের পার্লামেন্ট মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার কথা ছিল, তবে প্রার্থীর ওপর পারস্পরিক সমঝোতা না হওয়ায় ভোট বিলম্বিত হয়। এই দেরি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাগদাদে শিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার সংযোগ রয়েছে, যা ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবকে নির্দেশ করে। এই গোষ্ঠীগুলোর ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মার্কিন সরকার ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সরকার ইরানের প্রভাব বাড়তে দেখতে পছন্দ করে না এবং ইরাকের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানীয় সংযোগের গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি আয় ইরাকের সরকারি বাজেটের প্রায় ৯০% গঠন করে, যা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা থাকে, ফলে মার্কিনের আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি ইরাকের ভবিষ্যৎকে “শূন্য সম্ভাবনা” বলে উল্লেখ করেন, যদি মার্কিন সরকার আর সহায়তা না করে। তিনি মালিকি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা ইরাকের তেল রপ্তানি ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কো রুবিও, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মালিকির ইরানের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল‑সুদানির সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরান-নিয়ন্ত্রিত সরকার ইরাকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের বিদেশি নির্বাচনী হস্তক্ষেপ পূর্বে পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং হন্ডুরাসের মতো দেশে রাইট‑ওয়িংড প্রার্থীদের সমর্থন করার মাধ্যমে দেখা গেছে। তিনি ঐ দেশগুলোর নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ফলাফল অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।
ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সরকার আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরাককে তার স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সহায়তা বন্ধের হুমকি ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা পরবর্তী সপ্তাহে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।



