গানার এক প্রধান ফ্যাশন শোতে ৩৩ বছর বয়সী গ্যানা-আমেরিকান মডেল ও লেখক আবেনা ক্রিস্টিন জোনেল রঙিন আফ্রিকান প্রিন্টে মোড়ানো প্রোস্থেটিক পা দিয়ে রানের পথে হাঁটলেন, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ছিল। তার উপস্থিতি শোয়ের আলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিল এবং দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করল।
এই ইভেন্টটি রাজধানী আক্রার ফ্যাশন সপ্তাহের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজাইনারদের সৃষ্টিকর্ম উপস্থাপিত হয়। জোনেলের মঞ্চে প্রবেশের মুহূর্তে তার রঙিন পা এবং আত্মবিশ্বাসী হাঁটা সবাইকে মুগ্ধ করে। তিনি এই সুযোগটি ব্যবহার করে গ্যানা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেয়েছেন।
জোনেলের জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ঘটেছিল যখন তিনি মাত্র দুই বছর বয়সী ছিলেন। তার ডান পায়ের পেশিতে একটি বড় টিউমার দেখা দেয়, যা র্যাবডোমাইসারকোমা নামের বিরল ও আক্রমণাত্মক সফট-টিস্যু ক্যান্সার হিসেবে নির্ণয় হয়। চিকিৎসকেরা তার মা’কে রেডিয়েশন থেরাপি অথবা অঙ্গছিন্নের মধ্যে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল; রেডিয়েশন হলে তিনি চেয়ারলিফটের ওপর নির্ভরশীল হতে পারতেন।
মা অবশেষে অঙ্গছিন্নের পথ বেছে নেন, যা পরবর্তীতে জোনেলের জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃত হয়। তিনি আজ এই সিদ্ধান্তকে “সঠিক” বলে উল্লেখ করেন এবং তার বর্তমান সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে তা তুলে ধরেন। যদিও তিনি বর্তমানে গ্যানায় বসবাস করেন, তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে কাটে।
শৈশব থেকেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। চলাচলকে তিনি বেঁচে থাকার মাপকাঠি হিসেবে দেখতেন, এবং প্রতিটি পদক্ষেপে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করতেন। এই প্রক্রিয়া তাকে নিজের দেহের উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণত নিঃশব্দ, মেধাবী ও নিখুঁত হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তবে জোনেল এই স্টেরিওটাইপকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তিনি ছোটবেলায় কেবল শান্ত নয়, বরং জোরে কথা বলতেন, এক পায়ে দৌড়াতেন এবং কেউ তাকে ধাক্কা দিতেও পারত না। স্কুলে পড়াশোনায় তিনি সংগ্রাম করতেন, যা তার স্বাভাবিক চিত্রকে বদলে দেয়।
অক্ষমতা তার স্বভাবকে নরম করেনি, বরং তা তীক্ষ্ণ করেছে। তিনি এখন নিজেকে “পেশাগতভাবে অনুপ্রেরণামূলক” শক্তি সম্পন্ন বলে বর্ণনা করেন, যা তার কাজ ও সামাজিক কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। এই তীক্ষ্ণতা তাকে মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম করে।
ফ্যাশন শোতে তার অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্যানা ও বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা উত্সাহিত করা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এবং গ্যানায় বহু বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন, এবং এই মঞ্চকে তার বার্তা পৌঁছানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
রঙিন আফ্রিকান প্রিন্টে সজ্জিত প্রোস্থেটিক পা শুধু তার ব্যক্তিগত দৃঢ়তা নয়, বরং আফ্রিকান সংস্কৃতির গর্বও প্রকাশ করে। পা টির নকশা ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইলের রঙিনতা ও আধুনিক ফ্যাশনের মিশ্রণ, যা দর্শকদের মধ্যে আত্মগর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে। তার উপস্থিতি গ্যানার ফ্যাশন জগতে বৈচিত্র্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শোয়ের পর দর্শক ও মিডিয়া জোনেলের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে, এবং তিনি যে বার্তা দিয়ে গেছেন তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায়। তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি মঞ্চে উঠে প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করতে চান, এবং গ্যানা ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শিল্পে অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত করতে কাজ চালিয়ে যাবেন।



