অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ সম্প্রতি একটি নতুন নিয়োগমূলক প্রতিযোগিতা চালু করেছে, যার নাম এআই গ্র্যান্ড প্রিক্স। এই ইভেন্টটি ওহাইওতে অনুষ্ঠিত হবে এবং ড্রোনগুলোকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোর্স অতিক্রম করতে হবে। শীর্ষ দলগুলোকে নগদ পুরস্কার ও সরাসরি চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
প্রথাগত ড্রোন রেসে পাইলট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এআই গ্র্যান্ড প্রিক্সে অংশগ্রহণকারীদের কাজ হল এমন সফটওয়্যার লেখা যা ড্রোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পথ নির্ধারণ ও বাধা এড়াতে সক্ষম করে। তাই প্রতিযোগিতা মূলত কোডিং দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদমের উপর ভিত্তি করে। এই পদ্ধতি ড্রোনের স্বয়ংক্রিয়তা প্রযুক্তিকে বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়।
পুরস্কার তহবিল মোট পাঁচ লাখ ডলার, যা সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দলগুলোতে সমানভাবে ভাগ করা হবে। তাছাড়া, বিজয়ী দলগুলোকে অ্যান্ডুরিলের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা কোম্পানির জন্য উচ্চমানের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রোগ্রামার আকর্ষণ করার একটি নতুন পথ হিসেবে কাজ করবে।
এই ধারণা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়োগ কৌশল আলোচনা সভা থেকে উদ্ভূত হয়। এক সহকর্মী ড্রোন রেসের স্পনসরশিপের প্রস্তাব দেন, যা অ্যান্ডুরিলের পূর্বের মার্কেটিং প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে দলটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, শুধুমাত্র রেসের স্পনসরশিপের বদলে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন রেসের আয়োজনই অধিক অর্থবহ হবে।
অ্যান্ডুরিলের পূর্বে নাসকার কাপে “অ্যান্ডুরিল ২৫০” নামে একটি রেস স্পনসর করা হয়েছে, যা কোম্পানির ব্র্যান্ডিং কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রতিযোগিতার পরিকল্পনায় প্রেরণা জুগিয়েছে। ফলে এআই গ্র্যান্ড প্রিক্সকে কোম্পানির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রকাশের একটি মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অ্যান্ডুরিলের নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি, কারণ সেগুলো শারীরিকভাবে বড় এবং ওহাইওর সীমিত কোর্সে ফিট হবে না। ড্রোন রেসিং লিগের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ গতি ও ক্ষুদ্র আকারের ড্রোন অ্যান্ডুরিলের পোর্টফোলিওতে নেই। তাই কোম্পানি অন্য একটি ডিফেন্স টেক স্টার্টআপের ড্রোন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচিত ড্রোনগুলো নেরোস টেকনোলজিসের তৈরি, যা ছোট আকারের এবং উচ্চ গতির জন্য অপ্টিমাইজড। নেরোসের ড্রোনগুলো কোর্সের সংকীর্ণ পথ ও দ্রুত মোড়ে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সক্ষম। এই সহযোগিতা উভয় স্টার্টআপের জন্য প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও পারস্পরিক প্রচারকে বাড়িয়ে তুলবে।
ফাইনাল রেসটি ওহাইওর একটি বন্ধ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি দলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। ড্রোনগুলোকে রিয়েল-টাইমে সেন্সর ডেটা বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলাফল স্কোরিং সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে মূল্যায়ন করা হবে।
এই ইভেন্টের মাধ্যমে অ্যান্ডুরিল স্বয়ংক্রিয়তা প্রযুক্তিতে তার নেতৃত্বের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়। একই সঙ্গে, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ প্রদান করে তাদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। বিজয়ী দলগুলোকে সরাসরি কোম্পানির প্রকল্পে যুক্ত করা হবে, যা তাদের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতার আরেকটি লক্ষ্য হল ড্রোন স্বয়ংক্রিয়তা ক্ষেত্রে নতুন ধারণা ও অ্যালগরিদম উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কোড শেয়ার করে সমষ্টিগতভাবে প্রযুক্তির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারবে। এই ধরনের ওপেন-ইনোভেশন মডেল শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
অ্যান্ডুরিলের এই উদ্যোগটি প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য নতুন নিয়োগ পদ্ধতি হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচলিত রিক্রুটিং প্রক্রিয়ার পরিবর্তে গেমিফিকেশন ও হ্যাকাথন-সদৃশ ইভেন্টের মাধ্যমে সেরা প্রতিভা সনাক্ত করা সম্ভব। এভাবে কোম্পানি দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিফেন্স ও AI বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, এআই গ্র্যান্ড প্রিক্স স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিয়োগের সংযোগস্থলে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। নগদ পুরস্কার, চাকরির সুযোগ এবং বাস্তবিক চ্যালেঞ্জের সমন্বয় এই ইভেন্টকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা ড্রোন শিল্পের উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে এবং উচ্চমানের ট্যালেন্টকে আকৃষ্ট করবে।



