প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া FIFA নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপের আয়োজন লন্ডনে নির্ধারিত হওয়ায় আর্সেনালকে স্বাভাবিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গথাম FC, এএস ফার এবং করিন্থিয়ানসের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই তিনটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচ আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে হোস্ট ক্লাবের জন্য ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।
প্রতিযোগিতার পুরস্কার তহবিল £১.৭ মিলিয়ন (প্রায় $২.৪ মিলিয়ন) রেকর্ড ভাঙা পরিমাণে নির্ধারিত হলেও, ক্লাবগুলো সময়সূচি ও অন্যান্য লজিস্টিক বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে যে FIFA এই প্রথম সংস্করণে আর্সেনালের সুবিধা কমাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
FIFA পক্ষ থেকে একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে যে লন্ডনকে টুর্নামেন্টের সূচনা স্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত বিশ্লেষণের পর। দৃশ্যমানতা, খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা, আবহাওয়া, বিশ্বব্যাপী ভক্ত ও দলগুলোর প্রবেশযোগ্যতা, মিডিয়া অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে লন্ডনকে সর্বোত্তম স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিবৃতি FIFA-র নারী ফুটবলকে বিশ্বব্যাপী প্রসারিত করার লক্ষ্যকে তুলে ধরে, যেখানে লন্ডনের উচ্চমানের ফুটবল অবকাঠামো, বৈচিত্র্যময় ভক্তগোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার উপস্থিতি প্রতিযোগিতার প্রোফাইল বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্সেনাল একমাত্র হোস্ট ক্লাব নয়; পুরুষদের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপেও ইন্টার মিয়ামি, সিয়াটল সাউন্ডার্স এবং LA FC যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতা করে। বিশেষ করে সিয়াটল সাউন্ডার্স তাদের সব তিনটি ম্যাচ নিজস্ব ঘরে খেলে সুবিধা পেয়েছে, যা নারী টুর্নামেন্টের হোস্ট সুবিধার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
তবে সমালোচকরা যুক্তি দেন যে, নারী টুর্নামেন্টের সূচনা থেকেই হোস্ট ক্লাবকে সুবিধা দেওয়া ভবিষ্যতে সমতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা FIFA-কে অনুরোধ করছেন যে, পরবর্তী সংস্করণে নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্বাচন এবং সময়সূচি সমন্বয় করে সকল অংশগ্রহণকারী ক্লাবের জন্য সমান শর্ত তৈরি করা হোক।
পুরস্কার তহবিলের আকারে রেকর্ড ভাঙা পরিমাণের ঘোষণা স্বাগত হলেও, ক্লাবগুলো জোর দিয়ে বলছে যে আর্থিক পুরস্কারই একমাত্র বিষয় নয়; টুর্নামেন্টের কাঠামো, ভেন্যু নির্বাচন এবং সময়সূচি সমন্বয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম সংস্করণের সময়সূচি নিয়ে ক্লাবগুলো অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যেখানে কিছু দলকে ভ্রমণ ও প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে FIFA-র কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য সমন্বয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত FIFA কোনো পরিবর্তন বা সংশোধনের ঘোষণা দেয়নি, তবে ক্লাবগুলো ভবিষ্যতে সমতা নিশ্চিত করার জন্য সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এই বিতর্ক নারী ফুটবলের সমতা ও স্বচ্ছ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব ক্লাবের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



