28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন দিবসের আগে জাহাজ মন্ত্রণালয় লঞ্চ ও ইঞ্জিনবোটের চলাচল নিষিদ্ধ

নির্বাচন দিবসের আগে জাহাজ মন্ত্রণালয় লঞ্চ ও ইঞ্জিনবোটের চলাচল নিষিদ্ধ

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে জাহাজ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ভোটের দিন নৌযান চলাচল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে জারি করা হয়েছে এবং ভোটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লক্ষ্য রাখে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী মধ্যরাত, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত বোটের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্দিষ্ট রুটে চলমান বোটগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা সকল লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌযানের উপর প্রযোজ্য, তবে নির্বাচনের নির্ধারিত রুটে চলমান বোটগুলোকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে। জাহাজ মন্ত্রণালয়কে এই সময়সীমার মধ্যে নৌযান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করা যেতে পারে। এই শিথিলকরণে সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন পেতে হবে এবং তা লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

অতিরিক্তভাবে, কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মী, এবং ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান ও দূরপাল্লার নৌযান।

এই ছাড়ের উদ্দেশ্য হল জরুরি সেবা ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে কোনো বাধা না সৃষ্টি করা, পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করা। জাহাজ মন্ত্রণালয়কে এই ছাড়ের শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হল ভোটের দিন নৌযান চলাচল সীমিত করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো এবং ভোটারদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নদী ও জলপথে ভ্রমণকারী ভোটারদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

জাহাজ মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা প্রয়োগে তৎপরতা দেখাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নৌযান চালকদের নির্দেশনা প্রদান করবে। এছাড়া, নৌবন্দর ও টার্মিনালগুলোতে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপক্ষের কিছু নেতা এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, নদী-নির্ভর এলাকায় ভোটারদের চলাচল সীমিত হলে ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি নির্বাচনী অংশগ্রহণের অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় নৌযানই প্রধান পরিবহন মাধ্যম।

অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তারা উল্লেখ করেছে যে, জরুরি সেবা ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীর জন্য ছাড় রাখা হয়েছে, ফলে ভোটারদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নদী পারাপারকারী এলাকায়। তবে, যদি জাহাজ মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে ছাড়ের শর্তাবলী মেনে চলতে পারে এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে পারে, তবে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমে আসবে।

পরবর্তী ধাপে, জাহাজ মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনের পূর্বে নৌযান চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করতে হবে। কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামগ্রিকভাবে, ভোটের দিন নৌযান চলাচল নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা যথাযথ ছাড়ের মাধ্যমে ভোটার ও জরুরি সেবার স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments