ঢাকা উত্তরা, রাত ১:১৫ টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জনগণের সামনে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী গড়ে উঠলে তা নাগরিক স্বাতন্ত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলবে। র্যালিটি উত্তরা এলাকার বাসিন্দা ও সমর্থকদের সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, যদি উত্তরা ও দেশের সর্বত্র গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ সতর্ক থাকে, তবে কেউই তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না। তিনি এই সতর্কবার্তাকে ভোটের আগে নাগরিকদের সংহতি বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন জনগণের দীর্ঘ কষ্টের পর অর্জিত হয়েছে। তবে পূর্বে অধিকার হরণে ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয়েছে এবং এখন আবার কিছু গোষ্ঠী নতুন ষড়যন্ত্র গড়ে তুলছে। তিনি দাবি করেন, ঐ গোষ্ঠীর পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে যদি জনগণ ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকে।
গতকালের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি ও গল্প শোনানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান অন্তর্ভুক্ত। এসব সমস্যার মোকাবিলায় সংহতি ও গণতন্ত্রের শক্তি অপরিহার্য।
তারেক রহমান বলেন, একতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করলে ধীরে ধীরে দেশের সমস্যাগুলো অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয় ও নাগরিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আগস্ট ৫ তারিখের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা বহু ত্যাগ ও রক্তের মূল্য পরিশোধ করেছে। তিনি এই পরিবর্তনকে রক্ষা করার আহ্বান জানান, যাতে গণতন্ত্রের সুনাম বজায় থাকে। পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারের পূর্ণতা উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্রের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সুষ্ঠু ভোটের অধিকারকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সমৃদ্ধি স্থায়ী হবে না, এটাই তারেকের মতামত।
ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়তে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছে। তবে তিনি বলেন, অন্য দলকে সমালোচনা করা জনগণের জন্য তেমন কোনো উপকারে আসবে না। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণে কাজ করা।
র্যালিতে উত্তরা অঞ্চলের গ্যাস সংকটের কথাও উঠে আসে। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে বাসিন্দারা গ্যাস না পেয়ে বিল পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে। অতীতে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান বন্ধ করা হয়েছে, যা তিনি সমাধানের দাবি করেন। বিএনপি শাসনে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
গ্যাস সমস্যার পাশাপাশি তিনি উত্তরা এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সরকারী হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে, বলে তিনি জানান।
র্যালির সমাপ্তিতে তারেক রহমান আবারও ভোটের গুরুত্ব ও নাগরিকদের সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি ভোটারদেরকে তাদের অধিকার ব্যবহার করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।



