প্রিমিয়ার লীগ ক্লাবগুলো ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্যায়ে শারীরিকভাবে আধিপত্য বজায় রেখেছে, তবে টুর্নামেন্টের সম্প্রসারণ ও খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন তীব্রতর হয়েছে। বুধবারের শেষ ম্যাচে ছয়টি দল কোনো লক্ষ্য না রেখে খেলবে, এ বিষয়টি ইউইফা নিজেই স্বীকার করেছে।
এই মৌসুমের গ্রুপ পর্যায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখা যায়নি; বেশিরভাগ ম্যাচই ফলাফল নির্ধারণের আগে শেষ হয়ে যায়। ইউইফা জানিয়েছে যে শেষ রাউন্ডে ছয়টি দল কোনো পয়েন্টের জন্য লড়াই করবে না, ফলে ১২৬টি ম্যাচের পর নাপোলি বা ক্লাব ব্রুজের বাদ পড়ার সম্ভাবনা, অথবা টটেনহ্যাম ও আটালান্টার প্লে‑অফে প্রবেশের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত রাউন্ডের যোগ হওয়ায় ক্লান্তি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ আট দলের জন্য অতিরিক্ত দুইটি ম্যাচ না থাকা পুরস্কারটি স্বীকার করে যে, বর্তমান সময়ে ফুটবল অতিরিক্ত হয়ে গেছে; অতিরিক্ত ম্যাচগুলো আর আয় বাড়ানোর উপায় নয়, বরং একটি অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, আধুনিক ফুটবলে শুধুমাত্র শারীরিক শক্তি নয়, টেকসই পারফরম্যান্সও জরুরি। লিবেরো পডকাস্টে তরিক পাঞ্জা উল্লেখ করেছেন যে, গত পাঁচ বছরে আর্সেনাল ও প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ছাড়া অন্য কোনো প্রিমিয়ার লীগ দল এই পর্যায়ে উন্নতি দেখায়নি। এ দুই ক্লাবই এখনো শীর্ষ আটের মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রিমিয়ার লীগ দলগুলোর শারীরিক আধিপত্যের উদাহরণ গ্রুপ পর্যায়ে স্পষ্ট। নিউক্যাসল অ্যাথলেটিকের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে প্রভাবশালী খেলা দেখিয়েছে, আর্সেনাল অ্যাটলেটিকোকে কঠিন চাপে ফেলেছে, লিভারপুল রিয়াল মাদ্রিদকে শারীরিকভাবে চাপিয়ে দিয়েছে এবং চেলসি বার্সেলোনার বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করেছে। এই ম্যাচগুলোতে ইংরেজি দলগুলো শারীরিকভাবে ছোট ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে সহজে পরাজিত করেছে।
একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল টটেনহ্যামের মিকি ভ্যান দে ভেনের দৌড়। নভেম্বর মাসে টটেনহ্যাম কোপেনহেগেনের বিরুদ্ধে ৪‑০ জয় অর্জন করে, যেখানে ভ্যান দে ভেন পুরো মাঠ জুড়ে দৌড়ে তৃতীয় গোলটি করেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা তার সামনে লিলিপুটিয়ানদের মতো ছোট দেখিয়ে গুলিভারের দিকে গড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, তিনি সহজেই গলপোস্টের পিছনে বলটি ঠেলে দেন।
গ্রুপ পর্যায়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ঘটেছে। নাপোলি ও ক্লাব ব্রুজের সম্ভাব্য বাদ পড়া, টটেনহ্যাম ও আটালান্টার প্লে‑অফে প্রবেশের ঝুঁকি, এবং টটেনহ্যামের শেষ রাউন্ডে কোনো লক্ষ্য না থাকায় তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ইউইফার টেবিলে শীর্ষ আটের জন্য অতিরিক্ত দুইটি ম্যাচ না থাকা নীতির প্রাসঙ্গিকতা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রিমিয়ার লীগ দলগুলো এখনও ইউরোপীয় শীর্ষ ক্লাবের সঙ্গে তুলনায় গ্রুপ পর্যায়ে আধিপত্য বজায় রাখলেও, চ্যাম্পিয়নস লিগের চূড়ান্ত শিরোপা জেতা এখনও বিরল। ক্লান্তি, টুর্নামেন্টের অতিরিক্ত গেম এবং শারীরিক চাপের সমন্বয় ভবিষ্যতে ফলাফলকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লীগ ক্লাবগুলো গ্রুপ পর্যায়ে শারীরিকভাবে আধিপত্য বজায় রেখেছে, তবে টুর্নামেন্টের বিস্তার ও খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। ইউইফা এবং বিশ্লেষকরা একমত যে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত গেমের সংখ্যা কমানো এবং ক্লাবগুলোর বিশ্রাম নিশ্চিত করা চ্যাম্পিয়নস লিগের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।



