শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধন করে একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশনা এনটিআরসিএ আইন ২০০৫‑এর ধারা ৮(ট) অনুসারে গৃহীত, যা তিনটি অধিদপ্তরের (মৌশি, কারিগরি ও মাদ্রাসা) নিয়োগের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে প্রতি বছর অন্তত একবার শূন্য পদের চাহিদা এনটিআরসিএ‑কে জানাতে হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে এনটিআরসিএ নতুন নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও তদারকি করবে, ফলে শূন্য পদের পূরণে স্বচ্ছতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে।
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের মূল্যায়ন তিনটি মানদণ্ডে করা হবে: লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।
লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় প্রার্থীদের পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় শূন্য পদের তুলনায় সর্বোচ্চ তিনগুণ প্রার্থীর সংখ্যা পর্যন্ত উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হবে, যা অধিক সংখ্যক যোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দেয়।
প্রতিটি প্রার্থীর মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করা হবে এবং ১:১ অনুপাতে তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশের পর প্রার্থীরা অনলাইনে সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম (চয়েস লিস্ট) জমা দিতে পারবেন, যাতে তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান ও মেধা একসাথে বিবেচনা করা যায়।
প্রতিটি শূন্য পদের জন্য মেধাক্রম ও চয়েস লিস্টের সমন্বয়ে একক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হবে। সুপারিশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে বাধ্য, যাতে প্রক্রিয়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত থাকে।
যদি কোনো প্রার্থী প্রতিষ্ঠানের ভুল তথ্য প্রদান বা অন্য কোনো কারণে যোগদান করতে না পারে, তবে শূন্যপদটি মেধাক্রম অনুসারে পুনরায় সুপারিশের সুযোগ পাবে। এভাবে শূন্যপদের অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘস্থায়িত্ব রোধ করা সম্ভব হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত বা বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারবে না। এই শর্তটি নিয়োগের ন্যায়সঙ্গততা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নিয়মের অধীনে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ নম্বরের ওজন দেওয়া হয়েছে, যা প্রার্থীর শৈক্ষিক পটভূমি ও দক্ষতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে, মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বরের মূল্যায়ন প্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা যাচাই করে।
প্রতিটি অধিদপ্তরের শূন্য পদের তালিকা এনটিআরসিএ‑কে পাঠানোর সময়সীমা ও পদ্ধতি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, ফলে তথ্যের সঠিকতা ও সময়মতো প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত হবে। এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে অনাবশ্যক দেরি ও পুনরাবৃত্তি নিয়োগের ঝামেলা কমাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে গুণগত উন্নয়ন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নিয়োগের স্বচ্ছতা, যোগ্যতা-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং দ্রুত পদদান প্রক্রিয়া শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
পাঠকগণ যদি শূন্য পদে আবেদন করতে চান, তবে পরিপত্রে নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন। এছাড়া, অনলাইন চয়েস লিস্টে পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে নির্বাচন করলে আপনার সুযোগ বাড়বে। আপনার যোগ্যতা ও পছন্দের সমন্বয় কীভাবে সর্বোত্তমভাবে উপস্থাপন করবেন, তা নিয়ে একবার বিশ্লেষণ করা মূল্যবান।



