গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটারদেরকে মার্কিং সিলের কালি বেশি লেগেছে কিনা তা যাচাই করার নির্দেশ ইলেকশন কমিশন (ইসি) দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের একটি নোটিশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে এই বিষয়টি ভোটারদের কাছে জানাতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটারকে ব্যালট পেপার চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত মার্কিং সিলের কালি পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি সিলের কালি বেশি হয়, তবে তা প্রথমে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে রাখা সাদা কাগজে বা অন্য কোনো অব্যবহৃত কাগজে ছাপিয়ে কালি অবস্থার পরীক্ষা করা হবে।
পরীক্ষা সম্পন্ন হলে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারকে নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিং সিলের ছাপ দিতে নির্দেশ দেবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালি অতিরিক্ত লেগে ভোটের গোপনীয়তা বা বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা লক্ষ্য।
ইসি এই পদক্ষেপটি ভোটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ত্রুটি বা গলতিগুলি দ্রুত সনাক্ত করার জন্য গ্রহণ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এই নির্দেশনা ব্যাখ্যা করতে হবে এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
মার্কিং সিলের কালি পরিমাণের পরীক্ষা ভোটারদের জন্য নতুন প্রক্রিয়া, তবে ইসি উল্লেখ করেছে যে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সহজে সম্পন্ন করা যাবে। সিলের কালি বেশি হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না; তবে ভোটারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পর্যবেক্ষক ইসির এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত জটিলতা হিসেবে দেখছেন। তারা যুক্তি দেন যে, ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত ধাপ যোগ করা ভোটদান প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে এবং কিছু ভোটারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তবে ইসি এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যে, কালি পরিমাণের সঠিক মূল্যায়ন ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
ইসির এই নির্দেশনা নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য প্রস্তুতি নির্দেশনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। পূর্বে নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নির্দেশনা ভোটারদেরকে আরও সচেতন এবং সঠিকভাবে ভোট দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসির উপ-সচিবের নোটিশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের কোনো সন্দেহ বা অসুবিধা না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিং সিলের কালি পরীক্ষা করার পদ্ধতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বৈধতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসির এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটারদের বিশ্বাস বাড়বে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্নির্মাণে সহায়তা করবে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এই নির্দেশনা সময়মতো কার্যকর করা জরুরি। ইসির লক্ষ্য হল ভোটারদেরকে সঠিকভাবে ভোট দিতে সহায়তা করা এবং কোনো ধরণের ত্রুটি বা গলতি ঘটলে তা দ্রুত সনাক্ত করা।
সামগ্রিকভাবে, ইসির এই নতুন নির্দেশনা ভোটারদের স্বার্থ রক্ষা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হল এই নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ভোটারদের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ বজায় রাখা।
ভবিষ্যতে, যদি এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ হয়, তবে ইসির অন্যান্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ও অনুরূপ সতর্কতা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।



