গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি স্টেজে রাত ১২টা ২০ মিনিটে পৌঁছে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান নির্বাচনের দিন পার্টি নেতা ও কর্মীদের সতর্ক থাকতে এবং কোনো গোপন ষড়যন্ত্র রোধে ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে করার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে; এবার ভোট চুরি অনুমোদন করা হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন।
এর আগে তারেক রহমান ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে একটি সমাবেশে ভাষণ দেন এবং তৎপরই গাজীপুরের দিকে রওনা হন। গাজীপুরের সমাবেশস্থলে রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে পৌঁছানোর পথে তিনি ভিড়ের কারণে দেরি অনুভব করেন। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে স্টেজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পথ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় নেয়, কারণ পার্টি নেতা ও কর্মীরা রাস্তায় সজীবভাবে লাইন করে গাড়ির গতি ধীর করে দেয়। দেরি হওয়ায় তিনি সমাবেশে উপস্থিত নেতা ও কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে তারেক রহমান গাজীপুরের ভোটের দিনকে নিরাপদ করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে তবে জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে, গার্মেন্ট ও অন্যান্য কারখানায় কাজ করা নারীর কর্মীদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং জেলায় তিনটি খাল পুনরায় খনন করা হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে জয়লাভের পর গার্মেন্ট সেক্টরের মতো নতুন শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে।
তারেক রহমান তার শৈশবের স্মৃতিও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, গাজীপুরের ভাওয়াল মাঠে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তিনি ও তার পরিবার ঘুরে বেড়াতেন, সেখানে লাল রঙের একটি বাঙলা বাড়িতে তিনি, তার বাবা, মা ও ছোট ভাই একসাথে বাস করতেন। ঐ স্মৃতিচারণা থেকে তিনি উপস্থিতদের অনুরোধ করেন, “ধানের গাঁথা গাঁথা করে জয়লাভ নিশ্চিত করুন”।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলও স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সকলের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটদান এবং ফলাফলকে সম্মান করার দাবি রাখে। তবে, তারেক রহমানের সতর্কতা ও ভোট চুরি রোধের আহ্বানকে তার পার্টির সমর্থকরা ভোটের দিন নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গাজীপুরে সমাবেশের সময় উপস্থিত ভক্তদের সংখ্যা বিশাল ছিল; উভয় পাশে সমর্থকরা লাল-সবুজ রঙের বাসে চড়ে স্টেজের দিকে অগ্রসর হয়। ভিড়ের তীব্রতা এবং রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর হওয়ায় তারেকের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে, যা তার বক্তৃতায় উল্লেখযোগ্য দেরি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবুও, তারেকের ভাষণ শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন সতর্কতা, ধর্মীয় প্রার্থনা এবং ভোট চুরি রোধের ওপর জোর দিয়ে শেষ হয়।
এই সমাবেশের মাধ্যমে তারেক রহমান গাজীপুরের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, তাদেরকে ভোটের গুরুত্ব এবং অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অতীতের ভোট চুরির উদাহরণ তুলে ধরে বর্তমান নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারেকের এই আহ্বান গাজীপুরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অংশে ভোটের দিন নিরাপদ রাখতে পার্টি সদস্যদের মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অবশেষে, তারেকের প্রতিশ্রুতি ও স্মৃতিচারণা গাজীপুরের ভোটারদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।



