চ্লোয়ে জাওয়া, চীনের জন্মগ্রহণকারী লেখক, পরিচালক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্র সম্পাদক, তার নতুন কাজ ‘হ্যামনেট’ নিয়ে অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানে দু’টি শীর্ষ নোমিনেশন পেয়েছেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি সর্বোচ্চ পরিচালক ও সর্বোত্তম অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন, পাশাপাশি ছবিটিকে সর্বোত্তম ছবি, অভিনেত্রী (জেসি বাকলি), কাস্টিং, পোশাক নকশা, মূল সঙ্গীত ও প্রোডাকশন ডিজাইন বিভাগেও নোমিনেশন করা হয়েছে।
জাওয়া এখন পর্যন্ত পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্রষ্টা: ২০১৫ সালের ‘Songs My Brothers Taught Me’, ২০১৭ সালের ‘The Rider’, ২০২০ সালের ‘Nomadland’, ২০২১ সালের মার্ভেল‑ভিত্তিক ‘Eternals’ এবং ২০২৫ সালের ‘হ্যামনেট’। এই পাঁচটি কাজের মাধ্যমে তিনি তার প্রজন্মের অন্যতম সম্মানিত চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
‘Nomadland’ দিয়ে তিনি অস্কারে সর্বোচ্চ পরিচালক পুরস্কার জিতেছিলেন, যা তাকে ইতিহাসের দ্বিতীয় নারী ও প্রথম রঙিন নারী হিসেবে এই ক্যাটেগরিতে স্বীকৃতি এনে দেয়। একই সঙ্গে ‘Nomadland’ ছবিটি সর্বোত্তম ছবির পুরস্কারও পেয়েছিল, যা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রের নোমিনেশনগুলো শুধু জাওয়ার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ছবিটির সৃজনশীল দিকগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। জেসি বাকলির অভিনয়কে সর্বোত্তম অভিনেত্রী বিভাগে নোমিনেশন করা হয়েছে, আর কাস্টিং, পোশাক নকশা, মূল সঙ্গীত, প্রোডাকশন ডিজাইনসহ বহু বিভাগে ছবিটিকে সম্মান জানানো হয়েছে।
লস এঞ্জেলেসের ‘দ্য হলিভুড রিপোর্টার’ অফিসে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় জাওয়া তার আমেরিকায় আসার পথ ও পশ্চিমা দৃশ্যের প্রতি তার আকর্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকান পশ্চিমের বিশালতা ও স্বচ্ছন্দতা তার চলচ্চিত্রে পুনরায় তৈরি করার প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রারম্ভিক ক্যারিয়ারে তিনি প্রায়ই অপ্রশিক্ষিত মানুষকে তার ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছেন। ‘Songs My Brothers Taught Me’ ও ‘The Rider’ এ তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও অপ্রশিক্ষিত অভিনেতাদের ব্যবহার করে বাস্তবিকতা ও স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এই পদ্ধতি তার কাজকে স্বতন্ত্র ও প্রামাণিক করে তুলেছে।
পরবর্তীতে ‘Nomadland’ ও ‘Eternals’ এর মতো বড় বাজেটের প্রকল্পে তিনি প্রতিষ্ঠিত তারকারা ও আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এই পরিবর্তন তার চলচ্চিত্রের পরিসর বাড়িয়ে দেয় এবং বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
‘Nomadland’ এর স্বল্প বাজেটের স্বাধীন চলচ্চিত্রের সাফল্য এবং ‘Eternals’ এর বিশাল মার্ভেল প্রোডাকশন একসাথে পরিচালনা করার পর জাওয়া চার বছর ফিল্মমেকিং থেকে দূরে ছিলেন। এই সময়ে তিনি ‘হ্যামনেট’ প্রকল্পটি ত্যাগ করার কথা ভাবেন, কারণ তিনি নিজেকে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত না মনে করতেন।
অবশেষে তিনি ‘হ্যামনেট’ নির্মাণে হাত বাড়িয়ে দেন, কারণ শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামনেট’ উপন্যাসের মানবিক দিকগুলোকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার ইচ্ছা তাকে আকৃষ্ট করেছিল। ছবির শুটিংয়ে তিনি অপ্রচলিত পরিচালন পদ্ধতি ব্যবহার করেন; যেমন অভিনেতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকে গল্পের অংশ হিসেবে কাজে লাগানো।
‘হ্যামনেট’ মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে উঁচু প্রশংসা পেয়েছে। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দর্শক পুরস্কার জিতেছে, যা তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে। সাম্প্রতিক পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জেন ফোন্ডা চলচ্চিত্রটি প্রশংসা করে উল্লেখযোগ্য সমর্থন প্রদান করেন, যা শিল্প জগতে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
অস্কার মৌসুমের আগমনে জাওয়ার ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রটি বহু বিভাগে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, বৈচিত্র্যময় কাস্টিং এবং অনন্য পরিচালন শৈলী চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আগামী দিনগুলোতে তার কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



