টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী ছয়জন কৃষককে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় কৃষিকাজের সময় ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
অপহৃত কৃষকদের নাম ও বয়স নিম্নরূপ: মো. জমির (৩০), মো. মুন্না (২৫), মো. মাহাত আলম (৩০), মো. রফিক (৩৫), মো. মোজাহার (৫০) এবং মোস্তাক আহমেদ (২৭)। সকলেই টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী গ্রাম থেকে এসেছেন।
সাক্ষাৎকারে গ্রামবাসী খায়রুল আমিন জানান, ওই দুপুরে তিনি এবং অন্য কিছু কৃষক মাঠে কাজ করছিলেন, তখনই পাহাড়ি অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র ডাকাতদলের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অস্ত্রের হুমকি দিয়ে ছয়জনকে বাধা দিয়ে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, অপহরণ ঘটার পরই পরিবারগুলোকে অবিলম্বে জানানো হয়।
অপরদিকে, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় ছয়জন গ্রামবাসীর অপহরণ ঘটেছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মতে, অপহরণ ঘটার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং গ্রাম পরিষদ ও পরিবারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুসন্ধান দল পাহাড়ের নিকটবর্তী এলাকায় ঘুরে দেখছে এবং সন্দেহভাজন গোষ্ঠীর চলাচল ট্র্যাক করার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অপহরণ অপরাধের শাস্তি বাংলাদেশি দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর। পুলিশ দ্রুত FIR দাখিলের পাশাপাশি সাক্ষ্য সংগ্রহ, ফোরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য গোপনীয় সূত্রের মাধ্যমে অপরাধী সনাক্ত করার চেষ্টা করবে।
অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরনের অপরাধ রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবে এখনও গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
অপহৃতদের পরিবারগুলো বর্তমানে গভীর উদ্বেগে আছেন এবং দ্রুত মুক্তি পেতে সকল স্তরের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দও এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের ইনচার্জ এসআই রুদ্র আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হবে এবং অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় বাড়িয়ে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে তৎপরতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



