কিরণ রাও পরিচালিত ‘লাপাটাঁ লেডিস’ জাপানে ১৭ সপ্তাহের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাপান একাডেমি ফিল্ম প্রাইজ ২০২৪-এ সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক মানকে তুলে ধরেছে। চলচ্চিত্রটি ৪ অক্টোবর ২০২৪-এ জাপানে মুক্তি পায়।
মুক্তির পর থেকে চলচ্চিত্রটি থিয়েটার স্ক্রিনে ১১৫ দিনের ধারাবাহিক শো চালিয়ে আসছে, যা জাপানের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে এটি ১৭তম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রদর্শনী জাপানি বাজারে ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি নির্দেশ করে।
২০২৪ সালে জাপানে মুক্তি পাওয়া ২০৪টি আন্তর্জাতিক শিরোনামের মধ্যে থেকে ‘লাপাটাঁ লেডিস’ পাঁচটি শীর্ষ চলচ্চিত্রের একটিতে স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় নির্বাচিত হওয়া চলচ্চিত্রগুলো জাপান একাডেমি ফিল্ম প্রাইজের সর্বোচ্চ সম্মানজনক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা করবে।
প্রতিযোগিতায় রয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’, ইয়র্গোস ল্যান্থিমোসের ‘পূর থিংস’, জনাথন গ্লেজারের ‘দ্য জোন অফ ইন্টারেস্ট’ এবং অ্যালেক্স গারল্যান্ডের ‘সিভিল ওয়ার’। এই চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। ‘লাপাটাঁ লেডিস’ তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের স্থান নিশ্চিত করেছে।
কিরণ রাওকে এখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের দৃষ্টান্তমূলক নির্মাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং গল্প বলার শৈলী আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। এই স্বীকৃতি ভারতীয় সিনেমার গ্লোবাল প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে।
জাপানে চলচ্চিত্রের সমালোচনামূলক প্রশংসা মূলত এর হৃদয়স্পর্শী কাহিনী এবং সূক্ষ্ম অভিনয়ের ওপর ভিত্তি করে। দর্শকরা বিশেষত দুই নববধূর অদ্ভুত বদল ঘটনার গল্পে আকৃষ্ট হয়েছে। চলচ্চিত্রের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো জাপানি দর্শকদের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করেছে।
এই প্রকল্পটি ‘জিও স্টুডিওস’ এবং ‘সালমান খান’ প্রোডাকশনসের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে। কিরণ রাও পরিচালনা ও ‘সালমান খান’ ও জ্যোতি দেশপান্ডের প্রযোজনা তত্ত্বাবধান করেছেন। চলচ্চিত্রটি ‘সালমান খান’ প্রোডাকশনস’ এবং কাইন্ডলিং প্রোডাকশনসের লেবেলে প্রকাশিত হয়েছে।
কাহিনিটি বিখ্যাত লেখক বিপ্লব গোস্বামীর পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পের উপর ভিত্তি করে রচিত। স্ক্রিনপ্লে ও সংলাপের কাজ করেছেন স্নেহা দেসাই, আর অতিরিক্ত সংলাপের দায়িত্ব দিয়েছেন দিব্যানিধি শর্মা। গল্পের মূল থিম হল সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের সংঘাত।
প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিতানশি গোয়েল, প্রতিভা রান্তা, স্পর্শ শ্রীবস্তাভা, ছায়া কাদম এবং রবি কিশন। চলচ্চিত্রটি দুই নববধূকে কেন্দ্র করে, যারা ট্রেনের যাত্রায় ভুলবশত একে অপরের বাড়িতে পৌঁছে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে সামাজিক কাঠামোর নানা দিক উন্মোচিত হয়।
জাপান একাডেমি ফিল্ম প্রাইজের বিজয়ী চলচ্চিত্রের ঘোষণা ১৪ মার্চ ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুষ্ঠানে ‘লাপাটাঁ লেডিস’ আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরির চূড়ান্ত বিজয়ীর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এই স্বীকৃতি ভারতীয় চলচ্চিত্রের গ্লোবাল উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানীয় দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলচ্চিত্রটি নতুন বাজারে প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছে। ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখন এই শিরোনামটি জাপানের থিয়েটারে উপভোগ করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাফল্যকে স্বাদ নিতে পারেন। আপনার নিকটস্থ সিনেমা হলের সময়সূচি পরীক্ষা করে এই অনন্য গল্পের অভিজ্ঞতা নিতে ভুলবেন না।



