গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চালু করা চেকপোস্টে ৩৬ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা সহ এক ব্যক্তি আটক হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযান গোপালগঞ্জের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়।
অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টুঙ্গিপাড়া চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। চেকপোস্টটি নিলফা বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে গড়ে তোলা হয়, যেখানে গৃহীত তল্লাশি কার্যক্রমে সকল ধরণের যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সময়সীমায় চেকপোস্টে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করা হয়। তল্লাশির সময় কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা না ঘটলেও, এক যাত্রীবাহী বাসের তল্লাশি থেকে গাঁজার বড় পরিমাণ ধরা পড়ে।
বসের বয়স ২৮ বছর, নাম মো. কাওসার, যাকে বাসের তল্লাশি চলাকালে গাঁজা বহন করতে ধরা পড়ে। গাঁজার মোট ওজন ৩৬ কেজি ৬০০ গ্রাম, যা স্থানীয় আইন অনুযায়ী গুরুতর মাদকদ্রব্যের অপরাধের আওতায় পড়ে। তার সঙ্গে কোনো অন্য অপরাধীর সঙ্গী ধরা না পড়লেও, গাঁজার পরিমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ধরা পড়া ব্যক্তি পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর উপজেলায় শংকর পাশা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা ফজলুল শেখের পুত্র। তার পরিবারিক পটভূমি ও গৃহস্থালির তথ্য অনুসারে, তিনি ঢাকা গুলিস্তান এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে পিরোজপুর জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। এই তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের পর, মো. কাওসারকে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয় এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্যের অবৈধ বহন ও পরিবহন সংক্রান্ত আইনের ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।
গোপালগঞ্জ জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত চেকপোস্ট, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এই যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
অভিযানের সফলতা ও ফলাফল নিয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে একই রকম চেকপোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপের হার কমিয়ে আনা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, গাঁজা পাচারের জাল বন্ধ করতে অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত করবে। গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চলমান এই প্রচেষ্টা, দেশের মাদকদ্রব্য নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে।



