সোমবার রাতের এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিকের সিইও ডারিও আমোডেই এবং ওপেনএআইের সিইও স্যাম আল্টম্যানের মন্তব্য প্রকাশিত হয়। উভয়ই মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের হিংসা নিন্দা করে এবং দেশের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু নীতি প্রশংসা করেছেন।
ডারিও আমোডেই এনবিসিতে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা হিংসা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে বর্ডার প্যাট্রোলের এজেন্টদের কাজকে তিনি “ভয়াবহতা” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে স্বশস্ত্র দেশগুলোকে সমর্থন করা দরকার এবং দেশের অভ্যন্তরে আমাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করা অপরিহার্য। একই সময়ে তিনি টুইটারে (X) মিনেসোটা রাজ্যের ঘটনার প্রতি তার নিন্দা প্রকাশ করেন।
অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধিত্বে আমোডেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোম্পানির আইসিই সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই এবং কোনোভাবে আইসিই কার্যক্রমকে সমর্থন করে না। এই তথ্যটি কোম্পানির নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
অন্যদিকে, স্যাম আল্টম্যানের অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা, যা নিউ ইয়র্ক টাইমসের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তাতে তিনি আইসিইয়ের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে “অত্যধিক” বলে সমালোচনা করেছেন। আল্টম্যান যুক্তি দিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা মানে অতিরিক্ত ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা, এবং হিংসাত্মক অপরাধী বহিষ্কারের সঙ্গে বর্তমান হিংসা আলাদা। তিনি আইসিইয়ের কাজকে অপরাধী বহিষ্কারের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলতে সতর্ক করে সঠিক পার্থক্য চিহ্নিত করার প্রয়োজন উল্লেখ করেছেন।
এই দুই সিইওয়ের মন্তব্যের পর, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের কর্মীরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দাবি তুলেছেন। তারা আইসিইকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে সরিয়ে দিতে এবং উভয় কোম্পানির আইসিই চুক্তি বাতিল করতে আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মীদের একটি ওপেন লেটারেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইসিইয়ের হিংসা বন্ধ করতে কোম্পানিগুলোকে স্পষ্টভাবে বিরোধিতা করা উচিত এবং আরও সহকর্মীকে এই আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আইসিইআউট.টেক নামে অজানা সংগঠনের প্রতিনিধিরা টেকক্রাঞ্চকে জানিয়েছেন, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই সিইওদের আইসিই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা শোনায় তারা সন্তুষ্ট। তবে তারা উল্লেখ করেছেন, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট এবং মেটা সহ অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সিইওদের কাছ থেকেও একই রকম মন্তব্যের প্রত্যাশা রয়েছে।
যদিও আমোডেই ও আল্টম্যানের মন্তব্যের প্রকাশের পদ্ধতি ভিন্ন—একজন জনসমক্ষে, অন্যজন অভ্যন্তরীণ বার্তায়—দুইজনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু নীতি প্রশংসা করেছেন। আমোডেই ট্রাম্পের সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট গ্রুপের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা,কে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেছেন, আর আল্টম্যানের বার্তায়ও ট্রাম্পের “দেশের স্বার্থ রক্ষার” দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় সিইওই যুক্তি দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সরকারী সংস্থার কাজের সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জনমত প্রকাশ টেক শিল্পে আইসিই সম্পর্কিত চুক্তি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু কোম্পানি আইসিইয়ের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য আরও চাপের প্রয়োজন হতে পারে। কর্মীরা আশা করছেন যে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই সিইওদের পাশাপাশি অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতারা একই রকম অবস্থান গ্রহণ করবেন, যা আইসিইয়ের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মিনিয়াপোলিসে দুই নাগরিকের মৃত্যু এবং বর্ডার প্যাট্রোলের হিংসা টেক শিল্পের কর্মীদের মধ্যে একটি বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের সূচনা করেছে। এখন কোম্পানির নীতি, সরকারী সংস্থা এবং নাগরিকের অধিকার একসঙ্গে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে তা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য।



