ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জিমনেসিয়ামের পাশে অবস্থিত মাঠে এই মাসের শুরুর দিকে শিশুদের ওপর কান ধরে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটার সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন আরবি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আজমাইন আদিব, যিনি তা সরাসরি দেখেছেন। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নির্দেশ করে।
আজমাইন আদিব জানান, তিনি নিয়মিত মাঠে অনুশীলন করতে আসতেন এবং ওই দিনই তিনি শিশুদের কান ধরে শাস্তি দিতে দেখা পান। শাস্তি দেওয়ার পর থেকে ওই শিশু‑কিশোর‑তরুণরা আর মাঠে ফিরে আসেনি, কারণ তারা জনসমক্ষে শারীরিক শাস্তি পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে গেছে।
শিশুদের মুখে দুঃখের ছাপ স্পষ্ট ছিল; তারা শাস্তি পেয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে এবং মাঠে খেলতে আর আগ্রহ দেখায় না। আজমাইন আরও উল্লেখ করেন, মাঠে অনুশীলনরত শিক্ষার্থীদের সম্পত্তি চুরি হওয়া সত্যি, এবং এই ঘটনার জন্য বহিরাগতদের সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মীরা যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে চুরির ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত শারীরিক শাস্তির দিকে নিয়ে যায়, এই ধারণা আজমাইন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় বা শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করত, তবে শিশুদের কান ধরে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহিত হাসানও একই মত পোষণ করেন। তিনি যুক্তি দেন, চুরি রোধের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে, শিশুরা নিরাপদে মাঠে খেলতে পারত এবং শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।
সামাজিক মাধ্যমে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডাকসু নেতার দ্বারা শিশুদের কান ধরে শাস্তি দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। পোস্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও শারীরিক শাস্তির অনুচিততা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
সর্বমিত্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, সকল পক্ষকে আইন মেনে চলতে হবে এবং একতরফা বিশ্ববিদ্যালয়কে দোষারোপ করা যায় না, এই বক্তব্যও শোনা যায়। ক্যাম্পাসের পুরনো দেয়াল মেরামতের জন্য আর্থিক সংস্থান না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মীদের কিছু গাফিলতি প্রকাশ পেয়েছে; তারা বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দিয়ে অতিরিক্ত আয় করে। এছাড়া, কিছু সাবেক ছাত্র ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে রাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে হুমকি দেয়, যা নিরাপত্তা কর্মীদের ভয় দেখায় এবং তারা তা নিয়ে কথা বলতে পারে না।
প্রোফেসর সাইফুদ্দীন আহমদ, যিনি ক্যাম্পাসের প্রক্টর, জানান সর্বমিত্রের চিঠি তিনি গ্রহণ করেছেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। এই প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: মাঠে অনুশীলন বা খেলাধুলা করার সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখুন, মূল্যবান জিনিসের তালিকা লিখে নিরাপত্তা কর্মীদের জানিয়ে দিন এবং কোনো অনিয়ম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানান। আপনার মতামত কী? ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ প্রস্তাব করবেন?



