ইংল্যান্ডের নারী ফুটবল লিগের দ্বিতীয় স্তর, উইমেনস সুপার লিগ ২ (WSL2) এই মৌসুমে নবনির্ধারিত বেতন সীমা কার্যকর করেছে, তবে ২৩ বছরের নিচের খেলোয়াড়দের জন্য ন্যূনতম বেতন এখনও জাতীয় জীবিকা মজুরির সমান নয়। লিগের পরিচালনা সংস্থা এই নীতি নিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যতে বেতন সীমা বাড়াতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং নিয়ম লঙ্ঘন করলে ক্লাবগুলোকে পয়েন্ট কেটে দেওয়া হতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২১ ও ২২ বছর বয়সের খেলোয়াড়দের মাসিক ন্যূনতম বেতন £22,200, আর ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের জন্য তা কমিয়ে £17,500 নির্ধারিত হয়েছে। ২৩ বছর ও তার উপরে বয়সী খেলোয়াড়দের ন্যূনতম বেতন £26,900 নির্ধারিত, যা পূর্বের স্তরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বেতন ছাড়াও, ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়দের সপ্তাহে কমপক্ষে ২০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির সময় নিশ্চিত করতে হবে; এই সময়ে ম্যাচের দিন ও খাবারের সময় অন্তর্ভুক্ত নয়। এই শর্তটি খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এবং পূর্ণ সময়ের কাজের চাপে না পড়তে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইংল্যান্ডের শ্রম আইনের অধীনে, ২১ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের যেকোনো কর্মচারীকে ঘন্টায় কমপক্ষে £12.21 মজুরি দিতে হবে, যা ৩৭.৫ ঘণ্টা কাজের সপ্তাহে বছরে প্রায় £23,810 সমান। একই সময়ে, ১৮ বছর বয়সের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘন্টায় £10, যা পূর্ণ সময়ে বছরে প্রায় £19,500 হয়।
অন্যদিকে, বাস্তব জীবিকা মজুরি, যা কর্মচারীর মৌলিক খরচ মেটাতে নির্ধারিত, ঘন্টায় £13.45, ফলে ৩৭.৫ ঘণ্টা কাজের সপ্তাহে বছরে প্রায় £26,227 হয়। লন্ডনে এই হার আরও বেশি, ঘন্টায় £14.80, যা শহরের উচ্চ জীবনযাত্রার প্রতিফলন।
লিগের চিফ অপারেটিং অফিসার হলি মর্দক এই নীতির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামো খেলোয়াড়দেরকে অর্ধেক সময়ের কাজের বদলে সম্পূর্ণভাবে ফুটবলে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই পরিবর্তন খেলোয়াড়দের পেশাগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
পূর্বের মৌসুমে WSL2-এ বেতন সীমা তুলনামূলকভাবে কম ছিল; উদাহরণস্বরূপ, ব্ল্যাকবার্ন ক্লাবের কিছু খেলোয়াড়কে বছরে মাত্র £9,000 বেতন দেওয়া হতো। এই পার্থক্য নতুন নীতির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে দূর করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
ব্ল্যাকবার্ন, যা এই মৌসুমে দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রত্যাহার করেছে, তাদের প্রস্থান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, দ্বিতীয় স্তরের ক্লাবগুলোর উপর আরোপিত আর্থিক চাহিদা টেকসই নয়। এই সিদ্ধান্ত লিগের আর্থিক কাঠামোর উপর আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
তবে, সব ক্লাবই ন্যূনতম বেতন মানতে পারছে না; তথাপি, বেশিরভাগ WSL2 ক্লাব ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করে এবং ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের খেলোয়াড়দের বেতন গড়ে ন্যূনতমের চেয়ে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বেশি। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, ক্লাবগুলো নতুন নীতিকে সমর্থন করে এবং খেলোয়াড়দের জন্য আরও ভালো আর্থিক শর্ত তৈরি করতে সচেষ্ট।
এই বেতন কাঠামো প্রণয়নে পেশাদার ফুটবলার সমিতি (PFA) এর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে, এবং এটি অধিকাংশের কাছ থেকে ইতিবাচক স্বীকৃতি পেয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, লিগকে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য সতর্কভাবে পরিকল্পনা করতে হয়েছে, যাতে ক্লাবের টেকসইতা ও খেলোয়াড়ের মঙ্গলের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে।
নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, লিগের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলোকে পয়েন্ট কেটে দেওয়া হতে পারে, যা তাদের লিগ টেবিলে অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। এই শাস্তি ব্যবস্থা ক্লাবগুলোকে বেতন সীমা মেনে চলতে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।
নতুন বেতন নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে, WSL2-এ প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাবের আশা করা হচ্ছে। লিগের পরবর্তী ম্যাচসূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যা ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ গেমের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে।



