মেটা মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপ WhatsApp নতুন নিরাপত্তা অপশন ‘Strict Account Settings’ চালু করেছে। এই ফিচারটি অজানা প্রেরকের মিডিয়া, অডিও ও ভিডিও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করে এবং অজানা নম্বর থেকে কলের আওয়াজ বন্ধ করে। একই সঙ্গে লিঙ্ক প্রিভিউ দেখানো বন্ধ হয় এবং অজানা প্রেরকের বার্তা সীমিত করার ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে।
‘Strict Account Settings’ সক্রিয় করলে দুই‑ধাপ যাচাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। ব্যবহারকারী যখন কোনো চ্যাটের কোড পরিবর্তন হয় তা জানাতে নিরাপত্তা নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। এছাড়া শেষ দেখা, অনলাইন স্ট্যাটাস, প্রোফাইল ছবি, ‘about’ তথ্য এবং প্রোফাইলে লিঙ্কগুলো কেবল সংরক্ষিত কন্টাক্টের কাছে দৃশ্যমান থাকে।
গ্রুপে যোগদান সম্পর্কেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। নতুন সেটিং চালু থাকলে কেবল আপনার কন্টাক্ট অথবা পূর্বে নির্বাচিত কন্টাক্টের লোকজনই আপনাকে গ্রুপে যোগ করতে পারবে। এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা এবং অন্যান্য পাবলিক ফিগারদের জন্য উপকারী বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যবহারকারী এই ফিচারটি সক্রিয় করতে পারেন Settings > Privacy > Advanced মেনু থেকে ‘Strict account settings’ চালু করে। তবে এই পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রধান মোবাইল ডিভাইস থেকে করা যাবে, WhatsApp Web বা Windows অ্যাপ থেকে সেটিং পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
মেটা জানিয়েছে যে এই ‘লকডাউন‑স্টাইল’ নিরাপত্তা ফিচারটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে সব ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে। ব্যবহারকারী ইচ্ছা করলে এই অপশনটি চালু বা বন্ধ করতে পারবেন, তাই এটি বাধ্যতামূলক নয়।
ফিচারটি প্রকাশের সময় WhatsApp-কে নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে মেটা WhatsApp-এ ‘প্রাইভেট’ বলে দাবি করা যোগাযোগগুলো সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং প্রায় সব সময়ে অ্যাক্সেস করতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে WhatsApp-কে ভুয়া গোপনীয়তা দাবির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
WhatsApp প্রধানWill Cathcart এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে কোম্পানি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ব্যবহারকারীর চ্যাটের বিষয়বস্তু শেয়ার করে না। মেটা এই বিষয়টি নিয়ে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
‘Strict Account Settings’ এর প্রধান লক্ষ্য হল সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে ব্যবহারকারীর তথ্যকে আরও সুরক্ষিত করা। অজানা প্রেরকের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার বা ফিশিং লিঙ্ক পাঠানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারী এবং বিশেষ করে জনসাধারণের ব্যক্তিত্বদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্তর যোগ করবে।
এই ফিচারটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তা সেটিংস পুনরায় যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজনমতো অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। মেটা ভবিষ্যতে আরও উন্নত নিরাপত্তা টুল যোগ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা মোবাইল মেসেজিং পরিবেশকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।



