রুয়ান্ডা সরকার নেদারল্যান্ডের স্থায়ী সালিশি আদালতে (Permanent Court of Arbitration) একটি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে যুক্তরাজ্যকে বাতিল হওয়া মাইগ্র্যান্ট চুক্তির অধীনে বাকি থাকা আর্থিক দায়িত্ব পরিশোধের দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের নতুন সরকার চুক্তি রদ করার পর নেওয়া হয়েছে, এবং রুয়ান্ডা দাবি করে যে তাকে প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়া উচিত।
চুক্তিটি পূর্বের কনজারভেটিভ সরকার দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাজ্য রুয়ান্ডাকে শরণার্থী গ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংল্যান্ডের চ্যানেল পারাপার করে ছোট নৌকায় অপ্রবেশযোগ্যভাবে আসা শরণার্থীদের সংখ্যা কমানো।
লেবার পার্টির নতুন প্রধানমন্ত্রী স্যার কীয়ার স্টার্মার ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর চুক্তিটি বাতিল করা হয়। হোম অফিস জানায় যে, পূর্বে নির্ধারিত £২২০ মিলিয়ন ভবিষ্যৎ পেমেন্টগুলো আর রুয়ান্ডাকে প্রদান করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে রুয়ান্ডা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে, যা তারা আন্তর্জাতিক সালিশি মাধ্যমে সমাধান করতে চায়।
যুক্তরাজ্যের সরকারী মুখপাত্র উল্লেখ করেন যে, দেশটি করদাতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কঠোরভাবে তার অবস্থান রক্ষা করবে। তিনি চুক্তিটিকে “সম্পূর্ণ ব্যর্থতা” বলে উল্লেখ করে বলেন যে, এই নীতিতে £৭০০ মিলিয়ন ব্যয় করা হয়েছে, যার ফলে মাত্র চারজন স্বেচ্ছাসেবক রুয়ান্ডায় পৌঁছেছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে সরকার চুক্তির ব্যয়বহুলতা এবং ফলাফলকে সমালোচনা করেছে।
রুয়ান্ডা সরকার এই মন্তব্যের কোনো সরাসরি উত্তর দেয়নি, তবে বিদেশ মন্ত্রণালয় একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের (নিউ টাইমস) প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে সালিশি প্রক্রিয়ার বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সালিশি চুক্তির নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে।
আর্থিক দিক থেকে দেখা যায়, পূর্বের কনজারভেটিভ সরকার মোট £৭০০ মিলিয়ন ব্যয় করেছে, যার মধ্যে £২৯০ মিলিয়ন সরাসরি রুয়ান্ডাকে প্রদান করা হয়েছিল। তাছাড়া, ডিসেম্বর ২০২৪-এ হোম অফিস জানায় যে, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে প্রত্যেকটি £৫০ মিলিয়ন করে অতিরিক্ত পেমেন্টের দায়িত্ব রুয়ান্ডার কাছে ছিল, মোট £১০০ মিলিয়ন। এই পরিমাণগুলো এখন বাতিলের ফলে আর প্রযোজ্য নয়।
চুক্তিতে একটি “ব্রেক ক্লজ” অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে কোনো পক্ষ লিখিত নোটিশের মাধ্যমে চুক্তি সমাপ্ত করতে পারত। এই ধারা ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য চুক্তি রদ করার আইনি ভিত্তি পেয়েছে, যদিও রুয়ান্ডা দাবি করে যে এই রদকরণে চুক্তির আর্থিক শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি।
চুক্তির বাস্তবায়নের সময় মাত্র চারজন শরণার্থী রুয়ান্ডায় স্থানান্তরিত হয়েছিল, যা নীতির লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা নির্দেশ করে। এই সীমিত সংখ্যা এবং উচ্চ ব্যয় যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উত্থাপন করেছে, এবং নতুন সরকারকে মাইগ্রেশন নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
আসন্ন সালিশি প্রক্রিয়া রুয়ান্ডা এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে আর্থিক দায়িত্ব নির্ধারণের মূল মঞ্চ হবে। আদালতের রায় চুক্তি বাতিলের পরেও রুয়ান্ডা কতটুকু অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবে তা নির্ধারণ করবে, এবং একইসাথে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ মাইগ্রেশন চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
উভয় পক্ষই আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত, এবং ফলাফল সরাসরি দু’দেশের আর্থিক ভারসাম্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের মাইগ্রেশন নীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি পরিচালনার পদ্ধতিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।



