ইউরোপীয় কমিশন গুগলকে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) অনুসারে তৃতীয় পক্ষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা গুলোকে অ্যান্ড্রয়েডে গেমিনি‑এর সমতুল্য প্রবেশাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল স্মার্টফোনে AI অ্যাপ্লিকেশনগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা, যাতে নতুন সেবা গুলোও ব্যবহারকারীর কাছে সহজে পৌঁছাতে পারে।
কমিশন জানিয়েছে যে গুগলকে এখন তৃতীয় পক্ষের AI প্রদানকারীদের জন্য অ্যান্ড্রয়েডের সিস্টেম স্তরে একই ধরনের API ও ডেটা অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে হবে, যা গেমিনি‑কে বর্তমানে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, গুগল সার্চে সঞ্চিত অ্যানোনিমাইজড র্যাঙ্কিং, কুয়েরি, ক্লিক ও ভিউ ডেটা প্রতিযোগী সার্চ ইঞ্জিনগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে, যাতে তারা তাদের সেবা উন্নত করে গুগল সার্চের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
কমিশনের প্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের উপ-প্রেসিডেন্ট হেন্না ভির্ককুনেন উল্লেখ করেন, তৃতীয় পক্ষের অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন ও AI সেবা গুলোকে গুগলের নিজস্ব সেবা, যেমন গুগল সার্চ ও গেমিনি, এর সমান ডেটা ও সিস্টেম অ্যাক্সেস দিতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতি AI বাজারকে উন্মুক্ত রাখবে, প্রকৃত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও ব্যবসার উপকারে আসবে।
এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। গুগল যদি নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে পারে এবং DMA লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আয়ের জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বে গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বেশ কিছু বিরোধে জড়িয়ে ছিল। গুগলকে তার নিজস্ব ট্রাভেল, ফাইন্যান্স ও শপিং সেবা গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং গুগল প্লে ডেভেলপারদের বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতি প্রচার করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে DMA লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এই নতুন নির্দেশনা গুগলকে তার প্ল্যাটফর্মে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাধ্য করবে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য আরও বৈচিত্র্যময় ও সাশ্রয়ী বিকল্প তৈরি করবে।
গুগল ও অ্যালফাবেট (গুগল) উভয়ই এই প্রয়োজনীয়তাগুলো মেনে চলার জন্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও ডেটা শেয়ারিং প্রোটোকল আপডেট করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস নির্মাতারা এবং অ্যাপ ডেভেলপাররাও এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সেবা ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে পুনর্গঠন করতে পারেন।
ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপকে AI ইকোসিস্টেমের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষের AI সেবা গুলোকে সমান সুযোগ দেওয়া হলে, ব্যবহারকারীরা গুগলের একচেটিয়া সেবার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন বিকল্প থেকে বেছে নিতে পারবে, যা শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে।
গুগলকে এখন এই শর্তগুলো পূরণে দ্রুত কাজ করতে হবে, নতুবা উল্লেখযোগ্য আর্থিক শাস্তি ও বাজারে তার অবস্থান দুর্বল হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কঠোর নিয়মাবলী বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বাজারে প্রতিযোগিতার মানদণ্ডকে পুনর্গঠন করতে পারে, বিশেষ করে AI ও মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে।



