বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক আজ গুলাপগঞ্জ উপজেলা, সিলেটের একটি নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি ‘না’ ভোটের প্রচারকে দেশের স্বার্থের বিরোধী ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। র্যালিটি ১১-দলীয় জোটের সিলেট-৬ আসন প্রার্থী এবং জামায়াত-এ-ইসলামি ঢাকা নর্থের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মামুনুল হক রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভোটের পরবর্তী সময়ে কেউ যদি দেশের বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে তবে তা সহ্য করা যাবে না। এ ধরনের অবস্থানকে তিনি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সমন্বয় হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
মামুনুল হক রেলির সময় উল্লেখ করেন, জোটের লক্ষ্য হল ধর্মীয় সাদৃশ্যের ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষ সমানভাবে অংশ নিতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি জোট শাসনে আসে তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আর কোনো দমন বা বৈষম্য হবে না।
অধিকন্তু, তিনি জোটের শাসনামলে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও গৃহনির্মাতা থেকে কোনো ধরনের জবরদস্তি না থাকার প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করেন। জীবিকায় হস্তক্ষেপ না করে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার কথা তিনি তুলে ধরেন। এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
মামুনুল হক আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জনগণ জবরদস্তি ও সহিংস রাজনীতিতে ক্লান্ত। ফলে ভোটাররা এখন একটি ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। তিনি এই প্রবণতাকে দেশের উন্নয়নের নতুন দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সকালেই হক হেলিকপ্টার দিয়ে সিলেটে পৌঁছান এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় র্যালি শিডিউল করেন। তার ভ্রমণসূচিতে গুলাপগঞ্জের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা জোটের বিস্তৃত প্রচারাভিযানের অংশ।
র্যালিতে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে সংলাপের সময় মামুনুল হক জোটের নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জোটের শাসনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। এই বক্তব্যগুলো ভোটারদের মধ্যে জোটের প্রতি আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে বলা হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ১১-দলীয় জোট শাসনে আসে তবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জবরদস্তি, ধর্মীয় বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপের অবসান ঘটলে সামাজিক শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
মামুনুল হক র্যালির সমাপ্তিতে আবারও ‘না’ ভোটের প্রচারকে দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেন এবং সকল ভোটারকে দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য র্যালির মূল বার্তা হিসেবে রয়ে যাবে এবং আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



