সিলিকন ভ্যালির সফটওয়্যার কোম্পানি Airtable, তার প্রথম স্বতন্ত্র পণ্য Superagent প্রকাশ করেছে। এই AI‑ভিত্তিক এজেন্টটি ব্যবহারকারীর প্রশ্নের ভিত্তিতে একাধিক বিশেষজ্ঞ মডেলকে সমন্বয় করে কাজ করে। প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হাওয়ি লিউ উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ, যদিও গত কয়েক বছর ধরে কোম্পানির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
Airtable ২০২১ সালে শূন্য সুদের বাজারে $১১.৭ বিলিয়ন মূল্যায়ন পেয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে দ্বিতীয়িক বাজারে তার মূল্য প্রায় $৪ বিলিয়নে নেমে এসেছে। তবুও, কোম্পানি মোট $১.৪ বিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি নগদে রিজার্ভে রয়েছে। লিউ বলেন, এই আর্থিক অবস্থান কোম্পানিকে নতুন পণ্য বিকাশে স্বচ্ছন্দ করে তুলেছে।
কোম্পানির কর্মীসংখ্যা বর্তমানে ৭০০ের বেশি, এবং ৫ লক্ষেরও বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা ব্যবহার করে। এর মধ্যে ফর্চুন ১০০ তালিকার ৮০ শতাংশ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত, যা Airtable‑কে একটি পরিণত ও বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই পরিসর দেখায় যে, মূল্যহ্রাস সত্ত্বেও ব্যবসার মূল কাঠামো ও গ্রাহক সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে।
Superagent হল Airtable‑এর ১৩ বছর দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম স্বতন্ত্র পণ্য, যা কোম্পানির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান AI প্রবণতার সংযোগস্থলকে নির্দেশ করে। সফটওয়্যার শিল্পে এখন প্রতিটি বড় খেলোয়াড় এজেন্ট‑ভিত্তিক সমাধান প্রদানে তৎপর, এবং Airtable এই দৌড়ে নিজস্ব অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়।
নতুন এজেন্টের মূল ধারণা হল ‘মাল্টি‑এজেন্ট কোঅর্ডিনেশন’। ব্যবহারকারী একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে, একক AI মডেল ধারাবাহিকভাবে কাজ করার বদলে, একটি সমন্বয়কারী এজেন্ট একাধিক বিশেষায়িত মডেলকে সমান্তরালভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেয়। লিউ ব্যাখ্যা করেন, এটি প্রচলিত প্রম্পট‑ভিত্তিক ইন্টারফেসের তুলনায় বেশি কার্যকরী এবং দ্রুত ফলাফল প্রদান করে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যবহারকারী তার অ্যাথলেজার ব্র্যান্ডকে ইউরোপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, Superagent প্রথমে একটি গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি করে। এরপর এটি বাজার বিশ্লেষণ, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন দিককে আলাদা মডিউলে ভাগ করে, এবং প্রতিটি মডিউলকে সমান্তরালভাবে প্রক্রিয়াকরণ করে। শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রদান করা হয়, যেখানে প্রয়োজনীয় সব তথ্য একত্রিত থাকে।
এই পদ্ধতি সফটওয়্যার শিল্পে এজেন্ট‑ভিত্তিক সেবা প্রদানকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তৈরি। বর্তমানে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যানড্রয়েডের মতো বড় কোম্পানি একই ধরনের মাল্টি‑এজেন্ট সিস্টেমের উন্নয়নে কাজ করছে, এবং Airtable‑এর এই পদক্ষেপকে শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে Superagent কীভাবে কাজের ধরণ ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করবে, তা এখনও পর্যবেক্ষণ করা বাকি। তবে কোম্পানি ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছে, এই এজেন্টটি বিভিন্ন শিল্পে স্বয়ংক্রিয় গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে। যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হয়, তবে Airtable‑এর গ্রাহকরা কম সময়ে বেশি তথ্য পেতে পারবে, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, Airtable বাজারমূল্যের পতনের পরেও নগদ রিজার্ভ ও শক্তিশালী গ্রাহকভিত্তি ব্যবহার করে AI‑এজেন্ট Superagent চালু করেছে। এই পণ্যটি মাল্টি‑এজেন্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাজকে সহজতর করতে চায়, এবং সফটওয়্যার শিল্পের AI দৌড়ে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।



