শাসন অধ্যয়ন কেন্দ্রের আয়োজিত “মিডিয়া রিফর্ম ইন বাংলাদেশ: ফ্রিডম, রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড পাওয়ার” আলোচনায় এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নুরুল কাবির আজ দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসে সংঘটিত হামলাকে “সতত, সংগঠিত হিংসা” বলে সরকারকে দোষারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আক্রমণগুলো কেবল স্বতঃস্ফূর্ত না থেকে পরিকল্পিত ছিল এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা স্পষ্ট।
দ্য ডেইলি স্টার অফিসে আগুন লাগার সময়, সাংবাদিকরা ভবনের ভিতরে আটকে ছিলেন, যখন বহির্ভাগে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। ঘটনাস্থলে অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর দ্রুত পৌঁছাতে না পারা, নুরুল কাবিরের মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্বের গুরুতর ব্যর্থতা নির্দেশ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনার জন্য সরকারকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতি অনুযায়ী, নুরুল কাবিরের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করা হয়েছে। শফিকুল আলমের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাতভর সরকারী সহায়তা চাওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাননি।
নুরুল কাবির শফিকুল আলমের এই পোস্টকে নিজেই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারিও বড় মিডিয়া হাউসের আক্রমণের সময় সাহায্য পেতে না পারেন, তবে তা স্পষ্ট যে সরকার এই ঘটনার অনুমতি দিয়েছে। তিনি সরকারের এই অযৌক্তিক আচরণকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।
মিডিয়া স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে নুরুল কাবিরের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, ক্ষমতার বিরোধিতা না করা সাংবাদিকতা কেবল জনসংযোগের কাজ হয়ে দাঁড়ায় এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ক্ষুণ্ন হয়।
কাবির জোর দিয়ে বলেন, প্রেস ফ্রিডম শুধুমাত্র সাংবাদিকদের জন্য নয়, পুরো জনগণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জনমতকে গঠন ও সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীন মিডিয়া না থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
সাংবাদিকদের কাজের নিরাপত্তা ও বেতন সুরক্ষার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বর্তমান বেতন বোর্ডের পুরস্কার না বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের নয়, মিডিয়া হাউসের মালিকদেরও ভাগ। তিনি সকল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নৈতিক কোডের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
কাবিরের মতে, সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউসের মালিকদের জন্য একটি স্পষ্ট আচরণবিধি গঠন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধ করা যায়। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসাথে কাজ করে এই সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানান।
শেষে, নুরুল কাবির সতর্ক করেন যে, সমষ্টিগত প্রতিরোধ ছাড়া মিডিয়া স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকারগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। তিনি সকল সাংবাদিককে একত্রে দাঁড়িয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে আহ্বান জানান।



